শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যমুনার ভাঙনে বাঁধের ১০০ মিটার বিলীন, আতঙ্কে নদী এলাকার মানুষ

আপডেট : ২১ মে ২০২২, ১১:৪০

উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। পানি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। যমুনার ভাঙনে ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের পুকুরিয়া-ভূতবাড়ী এলাকায় যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে। সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের দলিকার ও হাটবাড়ী চরের ৬০০ বাস্তুহারা পরিবার নদীভাঙনে এখন দিশাহারা। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে জনমনে ভাঙন-আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়নের পুকুরিয়া-ভূতবাড়ী এলাকায় যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ বিলীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ জনবসতি এলাকা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অর্থায়নে ভাঙন রোধে যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে পুকুরিয়া-ভূতবাড়ী এলাকার ৬০০ মিটার অংশে বাঁধ রক্ষায় কাজ করা হয়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় প্রকল্প এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।

উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বাবু বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনস্থান মেরামত না করা হলে সম্পূর্ণ বাঁধই নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বুধবার সারিয়াকান্দি উপজেলার দলিকার, হাটবাড়ি, মানিকদাইড়, ভাঙ্গুরগাছা, শিমুলতাইড়সহ কয়েকটি চর ঘুরে দেখা গেছে, বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। এতে তীরের মাটি ও বালুর স্তূপ ধসে পড়ছে নদীতে। বিলীন হচ্ছে তীরবর্তী ফসলি জমি ও লোকালয়। ভাঙন বেশি হচ্ছে হাটবাড়ী ও দলিকার চরে। দলিকার চরের কৃষক আমির আলী শেখ (৭০) জানান, তার ৩২ বিঘা জমি ছিল। যমুনার ভাঙনে সব শেষ। দুই বছর আগে দলিকার চরে এসে ঘর বানান। এখন ভাঙন সেই ঘরের দিকে এগোচ্ছে। এ নিয়ে ২২ বার তার ঘর ভেঙেছে। স্থানীয়রা আরো জানান, নদীভাঙনে দলিকার চরের আশ্রয়হারা প্রায় ২০০ পরিবার ঠাঁই নেয় পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার কালিরচর-সংলগ্ন বালুচরে। আর হাটবাড়ী চরের প্রায় ৪০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়ে ঠাঁই নেয় কিছুটা অদূরে বালুচরে। এখন যমুনার ভাঙনে এই দুই চরের ৬০০ পরিবার দিশাহারা। চালুয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলে যমুনার প্রবল ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে দলিকার ও হাটবাড়ী চরের ৬০০ পরিবার দিশাহারা হয়ে পড়েছে। ভাঙন-আতঙ্ক বিরাজ করছে সুজায়েতপুর, করমজাপাড়া, নয়াপাড়া ও দীঘিপাড়া চরেও। নদীভাঙন ঠেকাতে নদী ছাড়াও চরাঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ দরকার।

বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী নিবারণ চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পুরো ভাঙন এলাকা চিহ্নিত করে বালুভর্তি বস্তা ফেলে ও ব্লক বসিয়ে মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বগুড়ায় চলন্ত বাসে এসি বিস্ফোরণে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

ছাত্র ধর্ষণ, মাদরাসাশিক্ষক গ্রেফতার

ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ২ যাত্রী নিহত

সারিয়াকান্দিতে কৃষিজমিতে নদী খননের বালু ফেলার অভিযোগ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে হামলায় নিহত ১ 

বগুড়ায় ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বগুড়ায় স্কুল মাঠে যুবককে কুপিয়ে হত্যা