শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কোনো নিয়মই মানেন না নর্থ সাউথের ট্রাস্টিরা

আপডেট : ২৩ মে ২০২২, ০৮:৫৪

আইন অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা এটা মনে করেন না। তাই পদে পদে নিজেরা লাভবান হয়েছেন। নানা কৌশলে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির মাধ্যমে আদায় করা টাকা তুলে নিয়েছেন। কোনো কোনো ট্রাস্টি সদস্যের আয়ের অন্যতম উৎস হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কেই ব্যবহার করছেন।

গত দুই-তিন বছর ধরে ট্রাস্টি বোর্ডের কতিপয় সদস্যের অসততা উঠে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তদন্ত করে প্রমাণও পেয়েছিল। যে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে গায়েব হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ইউজিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নানও। তিনি বলেন, অর্ধেক টিউশন ফি দিয়ে শিক্ষার্থীর পড়তে পারত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিরা টিউশন ফি বাড়িয়ে টাকা নানাভাবে তুলে নিয়েছে। হাতেগোনা চার-পাঁচ জনই এ কাজ করেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। ইউজিসির কোনো নির্দেশনাও তারা পালন করেন না। ইউজিসির অনুমোদন ছাড়াই কয়েকটি বিষয় চালু করে শিক্ষার্থীর ভর্তি করে। এছাড়া নির্ধারিত আসনের কয়েকগুণ শিক্ষার্থীর ভর্তি করে। ভর্তিতে সর্বোচ্চ ফি নিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়টি। আর এই ফি নানা কৌশলে আত্মসাৎ করে ট্রাস্টিরা। আর্থিক ও প্রশাসনিক এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনও।

ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অতিরিক্ত টিউশন ফি আদায়, টিউশন ফির টাকায় গাড়ি কেনাসহ ডজনখানেক অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এফডিআর করার নামে প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট করে, স্ত্রীসহ স্বজনদের চাকরি দেওয়ার নমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে গাড়ি কেনা, অবৈধভাবে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার, কম মূল্যের জমি বেশি দামে কেনা, ডেভেলপার কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন নেওয়া, লাখ টাকা করে সিটিং অ্যালাউন্স গ্রহণ, অনলাইনে মিটিং করে অ্যালাউন্স গ্রহণ ও বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগসুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। জমি কেনার নামে ৩০৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিনসহ ছয় জনের নামে মামলা হয়। গতকাল ট্রাস্টি বোর্ডের চার জনকে পুলিশে দেয় উচ্চ আদালত। ২০১৯ সালের জুনে বিলাসবহুল আটটি রেঞ্জ রোভার ও একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি কেনা হয়। প্রতিটি গাড়ির ব্যয় দেখানো হয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। এসব গাড়ি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা ব্যবহার করে। গত সপ্তাহে এসব গাড়ি বিক্রি করে টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে প্রতি বছর এনএসইউর আয় কয়েক শ’ কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় এর অর্ধেকও খরচ হয় না। এ কারণে এসব টাকা নানা কৌশলে নিজেদের পকেটে নেওয়া শুরু করে ট্রাস্টি বোর্ডের কতিপয় সদস্য। টাকা নেওয়ার জন্য অপ্রয়োজনীয় কমিটির সভা ডেকে বড় অঙ্কের সিটিং অ্যালাউন্স নেন ট্রাস্টিরা। সভা ভেদে সিটিং অ্যালাউন্স হিসেবে সদস্যদের কেউ কেউ ৫০ হাজার টাকাও নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিটিং অ্যালাউন্স বাণিজ্যের লোভেই আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ২০টির বেশি কমিটি গঠন করা হয়। সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈঠক আর চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া যান। এর খরচ জোগানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউজিসি থেকে শুধু বিবিএ প্রোগ্রাম অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিবিএ ইন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস, বিবিএ ইন মার্কেটিং, বিবিএ ইন ম্যানেজমেন্ট, বিবিএ ইন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস, বিবিএ ইন অ্যাকাউন্টিং, বিবিএ ইন ইকনোমিক্স, বিবিএ ইন এন্টারপ্রেনারশিপ, বিবিএ ইন সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি সেমিস্টারে শুধু বিবিএতে ৫০ জন ভর্তির অনুমোদন থাকলেও সেখানে ভর্তি করা হয়েছে অনেক বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হয়ে কোনো কোনো সদস্য ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গরু-মহিষ নিয়ে দ্বন্দ্ব গড়ালো হাইকোর্টে

পদ্মা সেতু: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিগণ

কাজী নজরুলকে জাতীয় কবি ঘোষণার গেজেট প্রকাশে রিট

সংবিধানে থাকা ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল: হাইকোর্টে প্রতিবেদন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আমরা একা যুদ্ধ করে কী করব: দুর্নীতি নির্মূল প্রসঙ্গে হাইকোর্ট

সাধারণ ক্ষমায় অর্থপাচার বাড়বে, উৎসাহিত হবে ঘুষ-দুর্নীতি

আদালতে তোলা হচ্ছে পি কে হালদারকে 

সুপ্রিম কোর্টে মেডিয়েশন সেন্টারের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন