চীনের বিরোধিতা সত্ত্বেও তাইওয়ান প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার যুদ্ধজাহাজ দুটি পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে তাইওয়ানের প্রতি ফের সমর্থন ব্যক্ত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ নিয়ে চলতি বছরে তৃতীয়বারের মতো তাইওয়ান প্রণালীতে অবস্থান করছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। খবর রয়টার্সের
ইউএস প্যাসিফিক ফ্লিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইওয়ান প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মাধ্যমে এটাই প্রমান করা হচ্ছে যে, ভারত প্রশান্ত মহাসাগর সবার জন্য মুক্ত। বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মার্কিন নৌবাহিনী যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে উড়বে এবং নোঙ্গর করবে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্কিন যুদ্ধজাহাজের অবস্থানকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ এবং জাহাজের চলাফেরা পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে। তবে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, তাইওয়ান প্রণালী যেন অস্থিতিশীল না হয়। চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিষয়ে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাইওয়ান চীনের জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র চীনের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা জানাবে বলে বেইজিং আশা করে।
আর্জেন্টিনায় জি-২০ সম্মেলনের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর এ সম্মেলনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য যুদ্ধ, দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সামরিক উপস্থিতির বিষয়গুলোই আলোচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কেবল ২০১০ সালের পর থেকে ওয়াশিংটন তাইপের কাছে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র ও সরঞ্জাম বিক্রি করেছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। শি জিনপিং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে আসার পর থেকে তাইওয়ানের ওপর নানামুখী চাপও বাড়িয়ে চলছেন। তার ‘এক চীন’ বিদেশনীতির কারণে এরই মধ্যে তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দেওয়া অনেকগুলো দেশ পক্ষ বদলে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কও গড়েছে।
