শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কুসিক নির্বাচন: ২৪ কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৩৩ মামলা

আপডেট : ২৪ মে ২০২২, ০৯:৫৪

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের ২৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে ১৩৩টি মামলা রয়েছে। হত্যা, অস্ত্র, সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড, বিশেষ ক্ষমতা, সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক আইন, মাদক ব্যবসা, নারী নির্যাতন, মারামারি, প্রতারণা ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধে এ মামলা দায়ের করা হয়। 

এদের মধ্যে জামায়াত ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধেই আছে ১০৩টি এবং আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ১৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে। অপর ছয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের একটি করে ১৩টি মামলা আছে। এসব প্রার্থীরা নিজেরাই তাদের মামলার তথ্য কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সম্প্রতি দাখিল করা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তবে এসব প্রার্থীদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধের মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে এসব মামলা দিয়েছে।

সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ১ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী কাজী গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিশেষ ক্ষমতা, সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক আইনে ২৭টি মামলা রয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তিনি মহানগর জামায়াতের সদস্য এবং টানা দুই মেয়াদে সিটির ঐ ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন। মামলায় পরবর্তী অবস্থানে আছেন সিটির ২ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. বিল্লাল। তিনি স্থানীয় যুবদলের নেতা। তার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা ও বিস্ফোরক আইনসহ নানা অভিযোগে ২৬টি মামলা রয়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে আছে বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫টি মামলা। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী একসময় ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একরাম হোসেনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা, বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২৫টি মামলা রয়েছে। তিনি এখন জামায়াত নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তবে এই দুই প্রার্থীও (মোশারফ হোসেন ও একরাম হোসেন) টানা দুই মেয়াদে নিজ নিজ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ছিলেন। 

এছাড়া সিটির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সরকার মাহমুদ জাবেদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা রয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে থাকা সৈয়দ রায়হান আহমেদের বিরুদ্ধে একটি মামলা আছে। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি নেতা শাখাওয়াত উল্লাহ শিপনের বিরুদ্ধে মারামারির একটি মামলা এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাইফুল-বিন জলিলের বিরুদ্ধে পুলিশের কর্তব্য কাজে বাধা ও একটি হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা আছে। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা আছে। তিনি ঐ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এবং তিনি মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম-আহ্বায়ক। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. খলিলুর রহমান মজুমদারের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৪টিসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। তিনি সিটি দক্ষিণ এলাকার সদর দক্ষিণ উপজেলা যুবদলের সভাপতি। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আবদুস সাত্তারের বিরুদ্ধে দুইটি হত্যা মামলা আছে। তিনি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী মো. আবুল হাসানের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে, তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

সিটির ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সর্বোচ্চসংখ্যক মামলায় অভিযুক্ত কাজী গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সবগুলোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। আদালতে মামলার হাজিরা দিতে দিতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এরপরও তিনি এলাকাবাসীর পাশে ছিলেন, আছেন। ওয়ার্ডবাসী এ নির্বাচনেও তাকে বেছে নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অপর প্রার্থীরাও তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ভারত সীমান্তবর্তী এই নগরীর প্রধান সমস্যা মাদকের ভয়াবহতা। এছাড়া স্থানীয়ভাবে আছে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, যানজট ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট। এসব সমস্যার পাশাপাশি আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজিসহ ঘটছে নানা অপরাধ। সমস্যাগুলোর সমাধানসহ একটি উন্নয়নসমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠায় যে প্রার্থীকে যোগ্য মনে করব, আমরা তাকেই ভোট দেব।

কুসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার তথ্য নিজেরাই হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। প্রার্থীরা হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচনবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন এ সিটির মেয়র, ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৯টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের তিনটি পদে ইভিএমে শতভাগ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যা, দুইজনের যাবজ্জীবন

এবার কুমিল্লায় জমজ নবজাতকের নাম রাখা হলো পদ্মা-সেতু

বরগুনায় স্থগিত ২ ইউপির নির্বাচন ২৯ জুন

বিশেষ সংবাদ

বিএনপির কারণে হারলেন সাক্কু!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

তিতাসে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা আরোহীর মৃত্যু  

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয় 

পুলিশের গাড়ি থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলো কর্মীরা 

দেবিদ্বারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়