শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১০ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যমুনার ভাঙনে বিলীন শতাধিক ঘরবাড়ি

আপডেট : ২৫ মে ২০২২, ১৬:৫৯

বর্ষার শুরুতেই উজানের ঢলে যমুনা নদীতে ক্রমাগত পানি বাড়ার ফলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অরক্ষিত নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। এলাকাবাসীর দাবি, ইতোমধ্যেই কয়েক দিনের ভাঙনে যমুনার ঘোলা জলে তলিয়ে গেছে শতাধিক বাড়িঘর ও বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। 

এদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গড়িমসি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে যমুনার বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প এলাকাতেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। কলকল শব্দে অবিরত বয়ে যাওয়া যমুনা এখন তীরবর্তী জনবসতির জন্য বিরাট আতঙ্কের নাম। মাঝে মাঝেই নদীর স্বভাবসুলভ হুংকারে কেঁপে উঠছে মানুষ। কিছুক্ষণ পর পরই বিকট আওয়াজ তুলে যমুনার ঘূর্ণিতে তলিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের বসতভিটা। 

সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উজান থেকে নেমে আসা ঢলে যমুনায় ক্রমাগত পানি বৃদ্ধির ফলে শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আরকান্দি, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর, পাচিল ও পাকুরতলা গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে।

ইতোমধ্যেই অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এদিকে নদী তীরবর্তী এলাকার শত শত পরিবার ভাঙন আতঙ্কে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছে।

বসতবাড়ি হারানো বাবু মিয়া, ইয়াছিন কবিরসহ এলাকার শতাধিক লোকজন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নানা টালবাহানা করে সময়মত কাজ শুরু না করায় আমাদের বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেইসঙ্গে তীব্র স্রোতে টেনে নিয়ে গেছে আমাদের ফসলী জমি। একদিকে বাস্তুভিটা চলে গেছে নদীতে, অপরদিকে ফসলের জমিও মিশে গেছে যমুনায়। এখন সব হারিয়ে আমরা দিশাহারা। 

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় প্রকল্পের অন্যতম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মহসীন আলমের সঙ্গে। তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মূলত শ্রমিক সংকটের কারণে আমরা ঠিকমতো কাজ করতে পারছি না। এ ছাড়া, উজানের ঢলে আকস্মিক বন্যা নেমে আসায় ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে ভাঙন রোধে আমরা দ্রুত কাজ করার চেষ্টা করছি।’

পাউবো সূত্র জানায়, শাহজাদপুর উপজেলার এনায়েতপুর থানাধীন ব্রাহ্মণগ্রাম থেকে পাঁচিল পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার যমুনার ডান তীর ভাঙনরোধে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পটি অনুমোদনের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাজও শুরু করা হয়েছে। হঠাৎ যমুনার পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নদী ভাঙন শুরু হয়। যতটুকু কাজ করা হয়েছে, তাসহ বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এ এলাকায় ভাঙন চলে আসছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে এখানে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। কাজও শুরু হয়েছে। কিন্তু কাজের তেমন গতি ছিল না। এখন প্রকল্প এলাকাতে ফের ভাঙন শুরু হয়েছে। কয়েক দিনে অর্ধশত বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। শত শত মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।’ 

শাহজাদপুর বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি পাউবোকে জানানো হয়েছে। আর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাঙন কবলিতদের তালিকা প্রস্তুত করে সহায়তা দেওয়া হবে।’ 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকা ভাঙন রোধে সেখানে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের অধিকাংশ জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। মাত্র ৭০০ মিটারের মতো জায়গায় কাজ হয়েছে। এদিকে সেখানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে আপদকালীন সময়ের জন্য আমরা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করছি।’ 

ইত্তেফাক/এএইচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রংপুরে কাঁঠাল প্রতিযোগিতার অর্থ দেওয়া হবে বন্যার্তদের

নওগাঁয় ট্রাকচাপায় নিহত ৫, আরও একজন আশঙ্কাজনক

যবিপ্রবির ৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

কোরবানির হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ‘খাঁন বাহাদুর’

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে নারীসহ আটক ১২ 

লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত সাটুরিয়ায় কোরবানির ৭ গরুর মৃত্যু

পদ্মা সেতু: বাগেরহাটে ঘুরে দাঁড়াবে পর্যটন শিল্প

বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যায় ৬ জেএমবির মৃত্যুদণ্ড