মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফুলবাড়ীয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ১৯ শয্যা এখন স্টোর রুম!

আপডেট : ২৫ মে ২০২২, ১৭:১২

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি ৩১ শয্যার। ১১ বছর আগে ১৯ শয্যা বাড়িয়ে ৫০ শয্যা করা হয়েছে। এত বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রম। নতুন নির্মিত ১৯ শয্যা এখন স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ।  

উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের বাসিন্দাসহ একটি পৌরসভার প্রায় ৬ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা পান এখানে। ৩১ শয্যার হাসপাতালটিকে ২০১১ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এদিকে, নির্মাণাধীন ভবন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তরও করা হয়েছে। 

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ৩১ শয্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ হাসপাতালটিতে চাপ বেশি থাকায় অনেক সময়ে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেঝেতে থেকেই নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুরনো ভবনের পাশেই ৫০ শয্যার নতুন ভবনে রয়েছে ১৯টি বেড। আধুনিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ভবনটি। এরপরও রোগিরা ৫০ শয্যার স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রাইভেট হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে গিয়ে তাদের চিকিৎসা করানোর সামর্থ নেই। তাই তারা বাধ্য হয়েই এই হাসপাতালে আসেন। আবার অনেককে এখানে এসেও কাঙ্খিত চিকিৎসা না পেয়ে ফিরতে হয়। 

রোগীরা আরও জানান, সরকারি বিভিন্ন প্রকার ওষুধ থাকলেও রোগীদের ভাগ্যে জুটে না কোনো ওষুধ। এনামুল হক বিজয় নামে একজন রোগী বলেন, ‘৫০ শয্যা হাসপাতালের কার্যক্রমটি চালু হলে আমরা হয়তো একটু ভালো চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবো।’

৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে সরঞ্জামাদির মধ্যে অত্যাধুনিক একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেশিনটি তখন থেকেই নতুন ভবনের একটি কক্ষে বাক্সবন্দি রয়েছে, একদিনের জন্যও ব্যবহার হয়নি। ১১ বছর ধরে বাক্সবন্দি থাকায় আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি এখন সচল না অচল তা জানে না কর্তৃপক্ষ। প্রায় আড়াই বছর ধরে হাসপাতালের ইসিজি মেশিনটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ১১ বছর ধরে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি পরীক্ষা না হওয়ায় হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন অসহায় রোগীরা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। 

পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় রোগীদের গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। আর এতেই উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন বাজারে গড়ে উঠছে ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ জন ডাক্তার ও ২৪ জন নার্স, এনেসথেশিয়াবাদে প্রায় সব ডাক্তার কাগজে-কলমে বিদ্যমান। 

প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি চিকিৎসক ও জনবল থাকার পরও সংকট দেখিয়ে অকারণে অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) বন্ধ রয়েছে প্রায় ১১ বছর ধরে। 

প্রতিবছর পরিষ্কার-পরিছন্নের জন্য মোটা অংকের টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পরও বাথরুমের পানি সিঁড়ি বেয়ে বাইরে পড়ে। আউট ডোরের একপাশে স্টোর রুম বানিয়ে নোংরা করে রাখা হয়েছে। পয়ঃনিষ্কাশনের স্থানগুলো অপরিছন্ন, বিদ্যুৎ লাইট, ফ্যানগুলো ঠিক করার আগেই বিকল, দরজা-জানালায় বিভিন্ন কোম্পানির স্টিকারে কাঠ ঢেকে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাফিলতির কারণেই হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে রোগীরা অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিধান চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘নতুন ভবনে করোনার ওয়ার্ড ছিল, এখন মালামাল রেখে স্টোর রুম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।’ 

ইত্তেফাক/এএইচ 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার ব্যারিয়ারে বাসের ধাক্কা

‘পদ্মা সেতুতে স্পিডগান মেশিন-সিসি ক্যামেরা বসানোর পর মোটরসাইকেল চলবে’

নান্দাইলে বেড়েছে পাট চাষ 

অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৩

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শিক্ষক হত্যায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতারসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ

হাতিয়ায় ১৯ মণ মাছসহ চারটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ

ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর শিশু তানিশার দায়িত্ব নিলেন পুলিশ সদস্য

মির্জাপুরের কাঁঠাল যাচ্ছে অন্য জেলায়, ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকরা