শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ন্যায্য দাম নেই, গাছেই পচছে কাঁঠাল

আপডেট : ২৭ মে ২০২২, ১৯:৫৪

ঠাকুরগাঁওয়ের অধিকাংশ বাড়ির উঠনে ও বাড়ির আশপাশের ফাঁকা জায়গায় এবং মাঠে অন্যান্য ফলদ গাছের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় কাঁঠাল গাছ। প্রতি বছর গাছ ভর্তি কাঁঠাল হলেও খুব বেশি আয় করতে পারছেন না গাছ মালিকেরা। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গাছেই পচছে কাঁঠাল। এছাড়া গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। 

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিবছরের মতো এবারও গাছে ব্যাপক কাঁঠাল ধরেছে। দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি-কালবৈশাখী আম ও লিচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফলের ওপর আঘাত হানলেও কাঁঠালের কোন ক্ষতি হয়নি। গাছের ডালে ডালে ঝুলে থাকতে দেখা গেছে কাঁঠাল।

জেলার হরিপুর উপজেলায় কাঠালডাঙ্গী গ্রামের ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়িতে ১০টি বড় কাঁঠাল গাছ আছে। প্রতিবছর অনেক কাঁঠাল ধরে। এবারেও গাছ ভর্তি কাঁঠাল এসেছে। আর ২০ দিনের মধ্যে পাকতে শুরু করবে। পাইকাররা কাঁঠাল কিনতে  আসে। কিন্তু ন্যায্য দাম বলে না। তারা কাঁঠাল প্রতি দাম বলে ৫-১০ টাকা। এবার আরও বেশি ফলন হয়েছে কাঁঠালের। এজন্য আরও কম বলবে দাম। তাই কাঁঠাল বিক্রির থেকে গবাদি পশুকে খাওয়ানো উত্তম মনে করি।’

সদর উপজেলা মথুরাপুর এলাকার গৃহিনী আনসুরা বেগম বলেন, ‘বাড়ির আশপাশে যেসব জমিতে কাঁঠাল গাছ রয়েছে, তা থেকে সারাবছর ছাগলকে পাতা খাওয়ানো হয়। এজন্য গাছগুলো রাখা হয়েছে।’

ন্যায্য দাম পান না দাবি করে তিনি বলেন, ‘কাঁঠাল বিক্রির আশা করি না। কাঁঠাল ছাগল-গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করি। আর কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করে কয়েকমাস তরকারি হিসেবে খাওয়ার জন্য রাখি। 

কাঁঠাল। ছবি: ইত্তেফাক

একই গ্রামের নারী মমিনা খাতুন বলেন, ‘কাঁঠাল দেশের জাতীয় ফল। অথচ এই ফলের কোন কদর নেই।’ 

কৃষক আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার আবাদি জমির চারপাশে অন্যান্য গাছের পাশাপাশি ৩০-৪০টি কাঁঠাল গাছ আছে। কোন বছরই ভালো দাম পাইনি।’

জেলার কাঁঠালের পাইকারি ব্যবসায়ী পয়গাম আলী জানান, ‘গতবারের তুলনায় এ বছর কাঁঠালের আরও বাম্পার ফলন হয়েছে। এখনো কাঁঠাল কেনা তেমন শুরু হয়নি। তবে দু’একজন গাছ বা বাগান কিনে রাখছেন। ২০-২৫ দিনের মধ্যে কাঁঠাল কিনবে ব্যবসায়ীরা।’

কাঁঠাল ব্যবসায়ী পয়গাম বলেন, ‘গ্রামে বাড়ি বা বাগান থেকে সুলভমূল্যে কাঁঠাল কিনি। কিন্তু জেলাতে কাঁঠালের চাহিদা খুব বেশি না থাকায় দক্ষিণাঞ্চলে পাঠাই। এতে গাড়ি ভাড়া অনেক বেশি লাগে। অনেক সময় পথেই কাঁঠাল পঁচে যায়। ফলে অনেক লোকসান গুনতে হয়।’ 

ঠাকুরগাঁও জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, ‘জেলার অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে কাঁঠালে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য এই অঞ্চলে কোন প্রতিষ্ঠান হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ অনেক গাছ মালিক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। কাঁঠালের ন্যায্য দাম পাবে গাছ মালিকেরা৷ বাণিজ্যিকভাবে চাষ হবে কাঁঠালের।’ 

তবে ঠাকুরগাঁওয়ে কী পরিমাণ কাঁঠাল গাছ আছে তার কোন হিসাব নেই জেলা বন বিভাগের কাছে। জেলা বন কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘যেগুলো গাছ ব্যক্তি মালিকানা জমিতে রয়েছে, আমাদের কাছে সেগুলোর হিসাব নেই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের গাছ রয়েছে। তবে এর বেশিও হতে পারে বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন। 

ঠাকুরগাঁওয়ে কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য কোন পদক্ষেপ আছে কি না জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেই। তবে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরের কাঁঠাল সংরক্ষণবিষয়ক গবেষণা করছে বাংলাদেশ কৃষি ইনস্টিটিউটের ফল গবেষণা কেন্দ্র৷ তারা কাঁঠাল দিয়ে কয়েকটি পণ্য উৎপাদনের বিষয়ে গবেষণা করছে। যেন কাঁঠালের উৎপাদিত পণ্য সারাবছর পাওয়া যায়। এর মধ্যে কাঁঠালের চিপস, কাঁঠাল সত্ত্ব, কাঁঠালের আঁচার উল্লেখযোগ্য। 

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এ অঞ্চলে একটি কাঁঠাল সংরক্ষণ কেন্দ্র হলে অনেক কারখানা গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।’

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মির্জাপুরে পানির চাপে সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

রংপুরে কাঁঠাল প্রতিযোগিতার অর্থ দেওয়া হবে বন্যার্তদের

নওগাঁয় ট্রাকচাপায় নিহত ৫, আরও একজন আশঙ্কাজনক

যবিপ্রবির ৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কোরবানির হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ‘খাঁন বাহাদুর’

অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে নারীসহ আটক ১২ 

লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত সাটুরিয়ায় কোরবানির ৭ গরুর মৃত্যু

পদ্মা সেতু: বাগেরহাটে ঘুরে দাঁড়াবে পর্যটন শিল্প