শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নির্বাচনের পর ম্লান হয় সেতুর স্বপ্ন

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ০১:৩৯

‘ছবি তুইলা কি করবেন? জন্মের পর থেকে দেইখা আইতাছি এই নড়বড়ে সাঁকো । অনেক কষ্ট হয় আমাগো পারাপারে। এতে উঠলে হাত-পাও কাঁপে। আমাগো কথা কেউ শোনে না । কত জাগায় উন্নতি দেখি। বদলায় না ঘিওর ও শিবালয় সীমান্তের ২০ গ্রামবাসীর যোগাযোগব্যবস্হা। নির্বাচন এলে সবাই পাকা সেতুর স্বপ্ন দেখায়, পরে আর খবর নেয় না কেউ। ম্লান হয়ে যায় সেতুর স্বপ্ন।’ হতাশার সুরে বললেন, ঘিওর উপজেলার শোলধারা গ্রামের বৃদ্ধ মজিবর রহমান। 

ইছামতি নদীর দক্ষিণ দিকে শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বুতুনি গ্রাম আর উত্তরে ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের শোলধারা। এই দুই উপজেলার সীমানা দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। প্রতিদিন নড়বড়ে কাঠ আর বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে এলাকাবাসী। এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য দুই উপজেলাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ দাবি জানিয়ে এলেও আজ পর্যন্ত পূরণ হয়নি তাদের দাবি। কিন্তু ইছামতি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ; থেকে যায় কেবলই প্রতিশ্রুতি। 

সেতু না থাকায় বর্ষাকালে ২০টি গ্রামের লোক জনসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা কিংবা বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। ইতিমধ্যে সাঁকোর ওপর থেকে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ পথচারীরা। আর শুষ্ক মৌসুমে ঐ জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে পারাপার এলাকাবাসীর জন্য আরো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ এলাকার মানুষ শিবালয় এবং ঘিওর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। যুগ যুগ ধরে এ সব মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম ভাঙা কাঠের সাঁকো ।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে, দুই উপজেলার ইছামতি নদীর ওপর বাঁশ ও কাঠের সাঁকো ব্রিটিশ আমল থেকেই চলে আসছে। সাঁকোটি দিয়ে বানিয়াজুরি ইউনিয়নের শোলধারা, কেল্লাই, কাকজোর, বানিয়াজুরি, জোকা, নয়াচর, তারাইল, গাংডুবি এবং শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বুতুনি, বেজপাড়া, ধোলাকান্দা, কাছিধারা, ছোটবুতুনি, ইসারাবাজ, কোঠাধারা, বিলবৈড়ল, বিবিরাস্তি, শিমুলিয়া, খাইলসা, ফেচুয়াধারা, দোচুয়া, গালা, ডাকিজোড়া, পাড়াগ্রাম, ইন্তাজগঞ্জসহ ২০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার লোকের সহজ পারাপারের একমাত্র অবলম্বন এটিই।

জানা যায়, প্রতি বছর বানিয়াজুরি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রাজকুমার দাস ও কৃষ্ণ দাস ৮/১০ হাজার টাকা ডাকের মাধ্যমে নিয়ে তারা আরো লাখ টাকা খরচ করে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে পাটনির মাধ্যমে সাঁকো তৈরি করে। তারা পারাপার করা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা পয়সা না নিয়ে প্রত্যেকটি গ্রামের বাড়ি বাড়ি থেকে ধান, চাল, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজসহ নানা ফসল উত্তোলন করেন। এ সাঁকো দিয়ে ভ্যান, মোটরসাইকেল, রিকশা, বাইসাইকেলসহ নানা ধরনের যানবাহন পারাপার হয়। পারাপারের সময় এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জন শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলা সাঁকো ভেঙে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে। মোটরসাইকেল চালিয়ে পারাপারের সময় নিচে পড়ে আহত হন বেশ কয়েক জন।

বানিয়াজুরি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসআর আনসারি বিল্টু বলেন, এক পাড়ে ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়ন আর অপর পাশে শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন। হাটবাজার, জেলা সদর কিংবা তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। তিনি ইছামতি নদীতে ব্রিজের বিষয়ে উপজেলা কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাবেন। শিবালয় উপজেলা শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়্যারম্যান জহির উদ্দিন মানিক বলেন, দুটি উপজেলার অন্তত ৫ হাজার মানুষ সেতুর অভাবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এখানে একটি পাকা সেতুর খুব প্রয়োজন। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে তিনি অতিসত্বর যোগাযোগ করবেন বলে জানান। শিবালয় উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন জানান, এখানে একটি ব্রিজের বিষয়ে তার অফিসে একটি প্রস্তাবনা রয়েছে। ঘিওর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজ্জাকুর রহমান বলেন, বিষয়টি তিনি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করবেন।

ইত্তেফাক/এএইচপি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

মির্জাপুরে পানির চাপে সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

রংপুরে কাঁঠাল প্রতিযোগিতার অর্থ দেওয়া হবে বন্যার্তদের

নওগাঁয় ট্রাকচাপায় নিহত ৫, আরও একজন আশঙ্কাজনক

যবিপ্রবির ৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কোরবানির হাট কাঁপাতে প্রস্তুত ‘খাঁন বাহাদুর’

অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশকালে নারীসহ আটক ১২ 

লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত সাটুরিয়ায় কোরবানির ৭ গরুর মৃত্যু

পদ্মা সেতু: বাগেরহাটে ঘুরে দাঁড়াবে পর্যটন শিল্প