দিনাজপুরের বাজারে আসতে শুরু করেছে মৌসুমি ফল লিচু। তবে বাজার জমে উঠতে আরো এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এদিকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ বছর ভালো ফলনের আশা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। তারা বলছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে ৩০ শতাংশ ফলন কম হবে।
গত কয়েক দিন দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ লিচুবাগানের গাছে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা লিচু। কিছু বাগানে তা পাকতেও শুরু করেছে। তবে পরিপূর্ণভাবে পাকতে আরো বেশ কিছু দিন লাগবে। বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামের লিচুবাগানের মালিক আনারুল ইসলাম বলেন, সাধারণত মাদ্রাজি জাতের লিচু আগে পাকে। আর শেষে পাকে বোম্বাই, বেদানা, চায়না-৩সহ অন্যান্য লিচু। তিনি আরো বলেন, মাদ্রাজি লিচু পরিপক্ব হতে আরো অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে। আর পরিপক্ব বোম্বাই, বেদানা, চায়না-৩ বাজারে আসতে সময় লাগবে আরও দুই সপ্তাহ।
দিনাজপুর সদরের লিচুচাষি জিয়াউর রহমান ও বিরল উপজেলার রেজাউল ইসলাম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এ বছর লিচুর উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কম হবে। মূলত এ বছর মুকুল আসার সময় তাপমাত্রা ওঠানামা করা, অসময়ে কুয়াশা ও বিভিন্ন সময়ে শিলাবৃষ্টি সামগ্রিকভাবে লিচুর উৎপাদনে প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি গত এক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি ও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় লিচুতে পোকা ধরার আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
রংপুর বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দিনাজপুর ও রংপুর অঞ্চলের আট জেলায় প্রায় ৯ হাজার ১৯৭ হেক্টর জমিতে এ বছর লিচু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে প্রায় ৪৭ হাজার টন। শুধু দিনাজপুরেই জমির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর। জেলার ১৩ উপজেলাতেই কম-বেশি লিচু উৎপাদন হয়। এর মধ্যে দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল ও চিরিরন্দর উপজেলায় লিচুর উৎপাদন বেশি হয়। এখানে বোম্বাই, মাদ্রাজি, বেদানা, কাঁঠালি এবং চায়না-১, ২ ও ৩ জাতের লিচু আবাদ করা হয়। শাঁস বেশি এবং সুস্বাদু হওয়ায় বেদানা ও চায়না-৩ জাতের লিচুর দাম বেশি থাকে প্রতি বছরই। এ জাতের লিচু বাজারে প্রতি ১০০ পিস বিক্রি হয় ৮০০-১০০০ টাকায়।
এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, মোটামুটিভাবে দেশের প্রায় সব জেলাতেই লিচু উৎপাদন হয়। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির উর্বরতার কারণে উত্তরের জেলাগুলোতে বিশেষ করে দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়সহ যশোর, কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় লিচু উৎপাদন হয়। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) খালেদুর রহমান বলেন, দিনাজপুর জেলায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এই বাগানগুলোতে লিচু উৎপাদন হয় প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন। তবে আবহাওয়া কিছুটা বিরূপ হওয়ায় এবার উৎপাদনে এর প্রভাব পড়বে।
