একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন না পেয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও গাইবান্ধা জেলার সভাপতি আব্দুর রশীদ সরকার। দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে বুধবার মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন।
আব্দুর রশীদ ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে গাইবান্ধা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই আসনে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি গত সপ্তাহেই জাপা ছাড়েন।
এদিকে, মহাজোটের হয়ে জাপা থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টুও গতকাল দল ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ক্ষুব্ধ সেন্টু গতকাল সকালে রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সহস্রাধিক সমর্থক নিয়ে হাজির হন। এ সময় তার সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে স্লোগান দিতে থাকেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে পরে সেখানে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়। এ সময় সেন্টু সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়নের চিঠি না পেয়ে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুই-একদিনের মধ্যেই পদত্যাগের চিঠি দেবেন। প্রসঙ্গত, ফেনীর দাগনভুঁইয়া আসনে মহাজোটের হয়ে জাপা থেকে মনোনয়ন না পেয়ে সম্প্রতি দল ছাড়েন জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের উপদেষ্টা ও ফেনী জেলা জাপার সভাপতি রিন্টু আনোয়ার।
রওশনের আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের শামীম
জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ বর্তমানে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের এমপি। এবার এই আসনের পাশাপাশি তিনি ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনেও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আওয়ামী লীগ ও জাপা সূত্রে জানা গেছে, দুটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও রওশন ময়মনসিংহ-৪ আসনেই মহাজোটের প্রার্থী হবেন।
তবে সদর এলাকা হওয়ায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪ আসনে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আওয়ামী লীগে সম্প্রতি যোগদানকারী আমিনুল হক শামীম। বর্তমানে তিনি নবগঠিত ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। জানা গেছে, আওয়ামী লীগে যোগদানে আগে আমিনুল হক শামীম জামালপুর জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন।
