বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

পাঁচ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি ইউজিসির সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ১২:৩৬

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্তটি ২০১৭ সালের। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার মাস পরপর আর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। বছরে তিন সেমিস্টার পদ্ধতি উঠিয়ে সেখানে দুটি সেমিস্টার চালু করতে হবে। এই নির্দেশনার আলোকে ২০১৮ সালের শুরুতেই এটি কার্যকর করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০২২-এ এসেও সেটি বাস্তবায়ন করা যায়নি। বর্তমানে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার মাস পরপর নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়; অর্থাৎ বছরে তিন সেমিস্টার। বছরে দুটি সেমিস্টার হলে প্রতিটির মেয়াদ হবে ছয় মাস। পাঁচ বছর আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিকদের অনাগ্রহ ছিল। বছরে তিন বার ভর্তির সুযোগ পেলে বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করা যায়। অর্থ আদায়ও হয় বেশি। অথচ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে এক বার ছাত্র ভর্তি করা হয়।

আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গড়িমসি করে। আর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইউজিসিও খুব একটা কঠোরতা দেখায়নি। ২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনা প্রকোপ বাড়ার কারণে ইউজিসিও এ ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন আমলেও নেয়নি। আবার ২০২১ সাল থেকে বাস্তবায়নের নতুন নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের শুরু থেকে বছরে দুই সেমিস্টার চালুর জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চার মাসের মধ্যে সিলেবাস কভার করা, পরীক্ষা দেওয়া এবং ফলাফল প্রকাশ, এরপর আবার পরবর্তী সেমিস্টারে ক্লাস শুরু। এটা খুবই কঠিন, শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। শুধু আর্থিক নয়, একাডেমিকও। এতে শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বছরে তিন দফায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে নিজেদের শিক্ষার্থীদেরই আর চিনতে পারে না। তিন সেমিস্টার চালু থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেশনসহ অন্যান্য খাতে বিপুল অর্থ আদায় করা হয়। অভিভাবকদের বাড়তি ব্যয় কমাতে এবং লেখাপড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের বেশি সময়ের সুযোগ করে দিতেই নতুন এই ব্যবস্থা।

আজিজুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ত্রৈমাসিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা একটি সেমিস্টার শেষ করার জন্য ১৪ সপ্তাহ সময় পায়। এর মানে, তাদের সিলেবাস শেষ করার জন্য কমপক্ষে ৪২ সপ্তাহের প্রয়োজন। 

 তাই তারা অন্যকিছুর জন্য বছরে মাত্র ১০ সপ্তাহ সময় পায়। বছরে দুটি সেমিস্টার পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা এক বছরে মাত্র ৩৬ সপ্তাহ এবং প্রতি টার্মে ১৮ সপ্তাহের জন্য ব্যস্ত থাকবে এবং তারা বাকি ১৬ সপ্তাহ গবেষণা, সেমিনার, পেপার লেখা, শিথিলকরণ এবং অন্যান্য কারিকুলাম অ্যাকটিভিটির জন্য সময় ব্যয় করতে পারবে। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোর্স কারিকুলাম শেষ না করেই পরীক্ষা নিচ্ছে—এমন অভিযোগ জমা পড়েছে মন্ত্রণালয়ে।

ইউজিসি পরিচালক ওমর ফারুখ বলেন, ফলপ্রসূ শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে গেলে সেমিস্টার পদ্ধতি বছরে দুটি অনুসরণ করতে হবে। আগামী বছর থেকে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। 

ইত্তেফাক/কেকে