চিকিৎসকসহ সবার দরকার অগ্নিনির্বাপণ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ

অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে হাসপাতাল

আপডেট : ২৮ মে ২০২২, ২৩:১২

দেশের হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রসহ আগুন নেভানোর নানা যন্ত্রপাতি থাকলেও এগুলোর ব্যবহার জানেন না অধিকাংশ ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ফলে আগুন নেভানোর ব্যবস্হা থাকলেও বিপদের সময় তা রোগীসহ হাসপাতাল পরিবারের কারও কাজে আসছে না।

এ নিয়ে সচেতন নয় হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষও। কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগও নেই। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে রাজধানী ৪৩৩টি হাসপাতাল।

২০১৭ সালে তৈরি এই তালিকায় সংস্থাটি ১৭৪টিকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ২৪৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে। ঐ সময়ে হাসপাতালগুলোকে অগ্নিঝুঁকিমুক্ত করতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ৩০ দফা নির্দেশনাও দেওয়া হয়। ১৫টি পরিদর্শন দল গঠন করা হয়। কিন্তু হাসপাতালগুলো এই সতর্কতায় কোনো গুরুত্ব দেয়নি। ২০২০ সালের মে মাসে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হয়।

এর আগে সোহরাওয়াদী‌র্ এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। এগুলোতে কেউ মারা না গেলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। রোগীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এমন দুর্ঘটনাগুলোর সাক্ষী হয়েও দেশের হাসপাতালগুলোর অনেকগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। যেগুলোতে আছে সেগুলোর আগুন নেভানোর কৌশল ও যন্ত্র ব্যবহার জানেন না ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা জানেন না বা খেয়াল করেন না—কোথায় অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র, কোথায় পানির পাইপ ও সুইচ। ফলে বিপদের সময় এগুলো কোনো কাজে আসবে না বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণে করণীয় সম্পর্কে জ্ঞান বিনিময় এবং অনুশীলন করা হয়।

হাসপাতালের পাঁচ শতাধিক চিকিত্সক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এতে অংশ নেন। ফায়ার সার্ভিসের ৩৫ জন কর্মকর্তা হাতেকলমে তাদের এ প্রশিক্ষণ দেন। এ প্রসঙ্গে নিউরো সায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক বদরুল আলম বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা হাসপাতালগুলোর জন্য খুবই জরুরি।

ভবন নির্মাণের কোড অনুযায়ী সে ব্যবস্হা থাকারও কথা। অধিকাংশ ভবনে সে ব্যবস্হা রয়েছেও। কিন্তু সেই ব্যবস্থা-যন্ত্র ব্যবহারের কৌশল জানেন না ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এটি সবার জন্য দ্রুত জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এতে দুর্ঘটনার মাত্রা কমানোর পাশাপাশি হতাহত হওয়ার ঝুঁকিও কমানো যাবে।

ইত্তেফাক/এএএম