অধিকাংশ উদ্ভিদ পানির সাথে কিছু পরিমাণ খনিজ লবণ শোষণ করে
জীববিজ্ঞান
মো. আসাদ-উজ্জামান, শিক্ষক
মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
উদ্ভিদের পানি পরিশোষণ পদ্ধতি
মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ উদ্ভিদদেহের সজিব কোষে টেনে নেয়াকে শোষণ বলে। উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে থাকে। মূলরোমের সাহায্যে পানি শোষণ প্রক্রিয়াটি নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. মাটির কণার ফাঁকে ফাঁকে মূলরোম বিস্তার লাভ করে। আবার মাটির কণার ফাঁকে রয়েছে কৈশিক পানি।
২. মাটির কৈশিক পানির ঘনত্ব অপেক্ষা মূলরোমের ভেতরের কোষরসের ঘনত্ব বেশি থাকে।
৩. অন্ত:অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি মূলরোমের কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
৪. মূলরোমের অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করলে কোষরসের ঘনত্ব পার্শ্ববর্তী কোষের কোষরসের ঘনত্ব অপেক্ষা কমে যায়।
৫. ফলে পানি আবার অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলরোম হতে পার্শ্ববর্তী কোষে প্রবেশ করে।
৬. এভাবে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলের এক কোষ হতে অন্য কোষে পানি প্রবেশ করতে থাকে এবং পরিশেষে কাণ্ডের জাইলেম বাহিকার মাধ্যমে পাতায় পৌছায়।
চিত্র : অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি পরিশোষণ
খনিজ লবণ শোষণ:
অধিকাংশ উদ্ভিদ পানির সাথে কিছু পরিমাণ খনিজ লবণ শোষণ করে, কিছু লবণ মূলরোম দিয়ে শোষিত হলেও মূলের অগ্রভাগের কোষ বিভাজন অঞ্চলই শোষণ অঞ্চল হিসেবে কাজ করে। খনিজ লবণ শোষিত হয় আয়ন হিসাবে। শোষণ প্রধানত দুই উপায়ে হয়ে থাকে, যথা-
১। নিষ্ক্রিয় শোষণ
২। সক্রিয় শোষণ
নিষ্ক্রিয় শোষণ (Passive absorption) : এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের মূলরোম ইমবাইবিশন ও অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি শোষণ করে, এতে কোনো বিপাকীয় শক্তির প্রয়োজন হয় না।
সক্রিয় শোষণ (Active absorption) : সক্রিয় শোষণে খনিজ লবণ পরিবহনের জন্য কোষে উত্পন্ন বিপাকীয় শক্তির প্রয়োজন হয়।
অভিস্রবণের গুরুত্ব : উদ্ভিদ জীবনে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। নিম্নে অভিস্রবণের গুরুত্ব আলোচনা করা হল:
পানি পরিশোষণ : অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি পরিশোষন করে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সচল রাখে।
পানির চলাচল : উদ্ভিদের অভ্যন্তরে এক কোষ হতে অন্য কোষে এ প্রক্রিয়ায় পানি চলাচল করে।
কোষের স্ফীতি : অভিস্রবণের মাধ্যমে কোষের স্ফীতি ঘটে, ফলে কোষ আকার আকৃতিতে বৃদ্ধি পায়।
পানির সমবন্টন : উদ্ভিদের সমগ্র দেহে পানির সুসম বন্টন প্রধানত অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় ঘটে থাকে।
প্রস্বেদন নিয়ন্ত্রন : পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ রাখার মাধ্যমে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া প্রস্বেদনের হার নিয়ন্ত্রন করে।
বীজের অঙ্কুরোদগম : বীজের অঙ্কুরোদগমের সাফল্য নির্ভর করে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার উপর।
