‘মৌমিতার নিকট পরমাত্মাই ঈশ্বর’

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৯, ১৮:১৩

হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা

সুধীর বরণ মাঝি, শিক্ষক

হাইমচর মহাবিদ্যালয় ,চাঁদপুর

 

সৃজনশীল অনুশীলন                                                                                                               

১। পারমিতা ও মৌমিতা দুই বান্ধবী। পারমিতা  সকল বিষয় ত্যাগ করে কেবল সর্বব্যাপী ও নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করেন। তিনি কেবল জীবের জন্য,মানুষের জন্য,ঈশ্বরের ভালোবাসা লাভের জন্য কাজ করেন। অপরদিকে মৌমিতা ঈশ্বরকে পরমাত্মা হিসেবে দেখেন এবং একাগ্রচিত্তে মনের অন্তস্থল থেকে ঈশ্বরের অনুসন্ধান করেন। এইভাবেই দুই বান্ধবী ঈশ্বরের সান্নিধ্যলাভের চেষ্টা করে চলছেন।

ক) কখনও কখনও কে ভক্তের সেবা করেন ?                                                                                                                                                                                      খ) গীতাকে সপ্তশতী বলা হয় কেন ? ব্যাখ্যা কর।                                                                                                                     গ) পারমিতা যে দৃষ্টিতে ঈশ্বর উপলব্ধি করেন তা আলোচনা করো।                                                                                                                                                                           ঘ) ‘মৌমিতার নিকট পরমাত্মাই ঈশ্বর’ বিশ্লেষণ করো।

ক) উত্তর: কখনও কখনও ভগবান ভক্তের সেবা করেন ।                                                                                                     

খ) উত্তর মহাভারতের ভীষ্ম পর্বের অন্তর্গত ২৫ থেকে ৪২ এ আঠারোটি অধ্যায়কে একত্রে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সংক্ষেপে গীতা নামে পরিচিত। এখানে সর্বমোট সাতশত শ্লোক আছে। এই সাতশত শ্লোক থাকার কারণে গীতাকে সপ্তশতী বলা হয়।

গ) উত্তর : উদ্দীপকের পারমিতা সকল বিষয় ত্যাগ করে কেবল সর্বব্যাপী ও নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করেন। ধর্মগ্রন্থের বর্ণনানুযায়ী যাঁরা সকল বিষয়-বাসনা পরিত্যাগ করে কেবল সর্বব্যাপী ও নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করেন এবং ব্রহ্মেই সন্তুষ্ট থাকেন তাঁদের জ্ঞানী বলা হয়। জ্ঞানীদের কাছে ঈশ্বরই ব্রহ্ম, যিনি এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞানী ব্যক্তিরা মানুষের জন্য,জীবের জন্য এবং ঈশ্বরের ভালোবাসা লাভের জন্য কাজ করেন। পারমিতার কাজের আলোকে বলা যায়,পারমিতা জ্ঞানীর দৃষ্টিতে ঈশ্বর উপলব্ধি করেন।

ঘ) উত্তর ঃ উদ্দীপকের বর্ণনানুযায়ী মৌমিতা ঈশ্বরকে পরমাত্মা হিসেবে দেখেন এবং একাগ্রচিত্তে মনের অন্তস্থল থেকে ঈশ্বরের অনুসন্ধান করেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায় তিনি একজন যোগী। ধর্মগ্রন্থের বর্ণনায় আছে,যাঁরা একাগ্রতা সহকারে মনের অন্ত:স্থল থেকে ঈশ্বরের অনুসন্ধান করেন,সকল কামনা-বাসনা দূর করতে সমর্থ হন,তাঁদের যোগী বলা হয়। এঁদের মুখ্য উদ্দেশ্য ঈশ্বর লাভ। যোগীর দৃষ্টিতে ঈশ্বরই পরমাত্মা। এই পরমাত্মাই জীবাত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই যোগীর কাছে জীবও ঈশ্বর। এবং জীবের সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। তাই উপররে আলোচনা থেকে বলা যায়, মৌমিতা যেহেতু একজন যোগী তাই মৌমিতার নিকট পরমাত্মাই ঈশ্বর’।