মহাস্থানগড় খননে মিলেছে গুপ্ত যুগের প্রত্ন নিদর্শন

আপডেট : ২৯ মে ২০২২, ১১:২৭

আড়াই হাজার বছরের বেশি প্রাচীন মহাস্থানগড়ে টানা প্রায় দুই মাস ধরে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে গুপ্ত শাসনামলের (৩২০ থেকে ৫৫০ খৃষ্টাব্দ) নানা প্রত্ননিদর্শন মিলেছে। এ ছাড়া মহাস্থানগড় দুর্গনগরীর ভেতরে মিলেছে পাল শাসনামলের (৮০০ থেকে ১২০০ খৃষ্টাব্দ) চারটি বৌদ্ধ সমাধিসৌধ এবং একটি বৌদ্ধমন্দিরের স্থাপত্যকাঠামো। গত ১ মার্চ থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ শুরু হয়।

খনন কাজের মাঠ পরিচালক এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, খননকাজে গুপ্ত আমলের পোড়ামাটির ফলক, নর্দান ব্ল্যাক পলিশড ওয়্যারের বিশেষ ধরনের উত্তরাঞ্চলীয় কালো মৃত্পাত্রের টুকরা, প্রত্নযুগের টেরাকোটার ইটফলক, পোড়ামাটির তৈজসপত্র, মাটির প্রদীপ, প্রাচীন লিপিখচিত সিল, প্রত্নযুগের অলংকৃত ইট, ভগ্ন মৃত্পাত্র, পোড়ামাটির তৈরি মানবমূর্তি, পোড়ামাটির খেলনার ভগ্নাংশ, তৈজসপত্রের ভগ্নাংশ, পোড়ামাটির পাখি, প্রদীপ, কালির দোয়াত, পাথরের গুটিকা, পোড়ামাটির তৈরি পাশা খেলার ছক্কা, মাদুলিসহ নানা প্রত্ননিদর্শন মিলেছে। এ ছাড়া পাল আমলের চারটি বৌদ্ধ সমাধিসৌধ এবং একটি বৌদ্ধমন্দিরের প্রাচীন স্থাপত্যকাঠামোর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। নাহিদ সুলতানা বলেন, বৈরাগী ভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননে আরো প্রাচীন প্রত্ননিদর্শন উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের বৌদ্ধমন্দির ও বৌদ্ধ সমাধিসৌধগুলো পাল আমলের বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খননকাজে জড়িত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খননে যেসব বৌদ্ধ সমাধিসৌধ ও মন্দিরের স্থাপত্যকাঠামোর সন্ধান মিলেছে, এর দক্ষিণাংশে আগে খননে একটি মন্দির কমপ্লেক্সের স্থাপত্যকাঠামোসহ প্রাচীন নিদর্শন ও মূল্যবান নানা প্রত্নসামগ্রী মিলেছে। মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, প্রত্ননিদর্শন সযত্নে বের করতে খনন কাজে গেতি, কোদাল, চাকু ব্যবহার হচ্ছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খননকাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

মহাস্থানগড়ের ভেতরের একটি অংশের নাম বৈরাগীর ভিটা। প্রাচীন দুর্গনগরী মহাস্থানগড়ের জাহাজঘাটা থেকে দক্ষিণে এবং পরশুরাম প্যালেসের উত্তরে বৈরাগী ভিটার অবস্থান। এ স্থানটি একটি রাজবাড়ি ছিল বলে ধারণা করা হয়। সেই সময়ের রাজা কর্তৃক মুনি, ঋষি বা বৈরাগীর সেবা করা হতো বলে স্থানটির নাম বৈরাগীর ভিটা। মহাস্থানগড়ের লইয়েরকুড়ি ও বৈরাগীর ভিটায় খননকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর। খননকাজটি শেষ হয় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। খননকাজ করে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স যৌথভাবে। ঐ সময় প্রায় দুই মাস খননের পর পাওয়া যায় গুপ্ত, পাল ও মৌর্য আমলের ধ্বংস হয়ে যাওয়া অবকাঠামো ও বেশকিছু প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় খৃষ্টপূর্বাব্দ থেকে পঞ্চদশ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন আমলের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড় বা পুন্ড্রনগর। প্রাচীরবেষ্টিত পাঁচ হাজার ফুট দৈর্ঘ্য ও ৪ হাজার ৫০০ ফুট প্রশস্তের মহাস্থানগড়ের ভেতরে ও বাইরের প্রত্ননিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পরশুরাম প্যালেস, জিয়ত্ কুণ্ড, গোবিন্দ ভিটা, বৈরাগীর ভিটা, খোদার পাথর ভিটা, মানকালীর কুণ্ড, মুনির ঘোন, শিলা দেবীর ঘাট, বেহুলার বাসরঘর, ভীমের জাঙ্গাল, ভাসুবিহার, বিহার ধাপসহ নানা প্রত্ন ও স্থাপত্যনিদর্শন।

ইত্তেফাক/ইআ