ইউক্রেন যুদ্ধে যেসব অস্ত্রের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে

আপডেট : ২৯ মে ২০২২, ২৩:৫৫

বিশ্বে অনেক যুদ্ধই হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ, আফগানিস্তান যুদ্ধ, সিরিয়া যুদ্ধসহ অনেক। এগুলো যখন শুরু হয় তখন মনে হয় সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু দিন যত যায় যুদ্ধ যেন ততই সামনের দিকে যায়। সময়ের মতো এর রাস্তাও যেন শেষ হয় না। ফলে এসব যুদ্ধের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং মানবিক সংকটেরও শেষ থাকে না।

রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই কিয়েভ দখলে নেবে মস্কো। এরপর সেটা সপ্তাহ এবং মাসের ধারণা করা হয়। কিন্তু প্রায় তিন মাস হতে চলল। যুদ্ধ বাড়ার লক্ষণ দেখা গেলেও কমার ইঙ্গিত নেই। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, কূটনীতির মাধ্যমেই যুদ্ধ শেষ হবে। কিন্তু প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও খুব একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং যেন রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিংবা পশ্চিমা বিশ্বের মর্যাদা রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছে। 

ইউক্রেন অভিযানের শুরু থেকে যেসব অস্ত্রের বেশি ব্যবহার দেখা তা নিয়ে একটি প্রতিবেদনে তৈরি করেছে ডয়েচে ভেলে।

কিনজাল মিসাইল

মিগ-৩১ বিমানের গায়ে সাদা কিনজাল মিসাইল দেখতে পাচ্ছেন। শব্দের গতির চেয়ে এর গতি প্রায় পাঁচগুণ বেশি। তাই একে হাইপারসনিক মিসাইল বলা হয়। ১৯ মার্চ রাশিয়া জানায়, ইউক্রেনের পশ্চিমের একটি বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করতে এই মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। আর ২৯ মার্চ এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানান, রাশিয়া নিয়মিত এমন মিসাইল ব্যবহার করছে।

ভ্যাকুয়াম বোমা

এই বোমা থার্মোব্যারিক বোমা বা অ্যারোসল বোমা নামেও পরিচিত। ইউক্রেন যুদ্ধে এই সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ভ্যাকুয়াম বোমার আঘাতে অনেক বড় আগুনের গোলা সৃষ্টি হয়। এটি সুরক্ষিত ভবন, যন্ত্রপাতি ধ্বংস করতে পারে। মানুষকে মেরে ফেলতে কিংবা আহত করতে পারে।

ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান মিশেল বাচেলেট জানান, রাশিয়া জনবহুল এলাকায় অন্তত ২৪ বার এমন বোমা ব্যবহার করেছে বলে তার অফিস অভিযোগ পেয়েছে। এই বোমার এমন নামকরণের কারণ এই বোমায় অনেকগুলো ছোট ছোট বোমা (বম্বলেট) থাকে। ক্লাস্টার বোমা বিস্ফোরিত হলে ছোট বোমাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একটা বিশাল এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কালিবা ক্রুজ মিসাইল

ইউক্রেনের সামরিক ও সরকারি ভবনে হামলা চালাতে কালিবা ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে রাশিয়া।

ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক মিসাইল

ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক মিসাইল

এই মিসাইল সর্বোচ্চ ৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। বড় ভবন ও সুরক্ষিত, দুর্ভেদ্য অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারে এটি। বেলারুশ থেকে কিছু ইস্কান্দার মিসাইল ইউক্রেনের দিকে ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফসফরাস বোমা?
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ২৫ মার্চ জানান, রাশিয়া ইতিমধ্যে ফসফরাস বোমা ব্যবহার করেছে। লুহানস্কের গভর্নর জানান একটি গ্রামে এমন বোমা হামলায় দুই শিশুসহ কমপক্ষে চারজন মারা গেছেন। জেলেনস্কির মন্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানান, রাশিয়া ‘কখনও আন্তর্জাতিক কনভেনশন লঙ্ঘন করেনি।’

জ্যাভলিন মিসাইল

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল ব্যবহার করছে ইউক্রেন। পশ্চিমা দেশগুলো এসব তাদের সরবরাহ করেছে।

স্টিঙ্গার মিসাইল

এটি একটি অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট মিসাইল। এটিও পশ্চিমের কাছ থেকে পেয়েছে ইউক্রেন।

বায়রাকতার ড্রোন

বায়রাকতার ড্রোন

যুদ্ধ শুরুর আগে ইউক্রেনকে এই ড্রোন দিয়েছিল তুরস্ক। এটি ব্যবহার করে রাশিয়ার মিলিটারি কনভয়ের উপর হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।

ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

ওরিক্স মিলিটারি অ্যানালিসিস ব্লগের তথ্য উল্লেখ করে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) পর্যন্ত রাশিয়ার ৩১৮টি ট্যাঙ্ক ধ্বংস হয়েছে কিংবা সেনারা ফেলে পালিয়ে গেছেন। এছাড়া পাঁচশর বেশি সাঁজোয়া যান, ১৬টি ফাইটার জেট, ৩৫টি হেলিকপ্টার ও নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে ওরিক্স। আর ইউক্রেন হারিয়েছে ৭৯টি ট্যাঙ্ক, প্রায় ২০০টি সাঁজোয়া যান, ১২টি জেট ও ১৩টি জাহাজ।

ইত্তেফাক/টিআর