মতলবে ৬০ বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৯, ২১:০০

৭৮টিতে ভবনসহ

নানা সমস্যা

মতলব দক্ষিণ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন সমস্যা ও ৬০টি বিদ্যালয়ে  শিক্ষার্থীদের কোনো খেলার মাঠ নেই। এতে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ ও খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এতে ব্যাহত হচ্ছে তাদের মানসিক-শারীরিক বৃদ্ধি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ৭৮টি বিদ্যালয়ের ভবন সমস্যা ও ৬০টি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার।

সরজমিনে উপজেলার দগরপুর, চরনিলক্ষী, বাবুরপাড়া, ঘিলাতলী, শোভনকর্দী, দগরপুর, মুন্সীরহাট, ঢাকিরগাঁওসহ আরো কয়েকটি সরকারি  বিদ্যালয়ের পাশে এমনকি কাছাকাছিও কোনো খেলার মাঠ নেই। এক চিলতে জায়গার ওপর দাঁড়ানো এসব বিদ্যালয়ের আশপাশে পুকুর, খাল। হইচই, ছোটাছুটি করার জায়গাটুকুও নেই সেখানে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা মনমরা হয়ে যার যার মতো বসে আছে। কিছু বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কিছু বিদ্যালয়ের ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও নতুন ভবন প্রয়োজন।

পশ্চিম নাগদা সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক মো. শাহজামাল, শোভনকর্দী সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক আসমা আক্তার রুমা, দগরপুর সপ্রাবির প্রধান শিক্ষক সুইটি শিরিন জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য ভবন সমস্যা ও শিশুদের মানসিক বিকাশে কোনো খেলার মাঠ নেই। তাদের খেলাধুলায় অসুবিধা হচ্ছে।

একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্র জানায়, ‘মাঠের জন্য খেলতে পারি না। দৌড়ঝাঁপও দিতে পারি না। খেলতে না পারলে কী মন ভালা থাকে?’

বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পিন্টু সাহা বলেন, মাঠ না থাকায় তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলতে পারছে না। এতে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে তারা। বিদ্যালয়ের সামনে সকালে সমাবেশেরও জায়গা নেই। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সমাবেশ করতে হয়। বিদ্যালয়ের পূর্বদিকের পুকুরটি ভরাট হলে সমস্যার সমাধান হতো।

মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচা মেলা পরিচালক ও শিশু সংগঠক মাকসুদুল হক বাবলু বলেন, ‘প্রতিটি বিদ্যালয়েরই নিজস্ব মাঠ থাকা জরুরি। এতে পড়ালেখা-খেলাধুলার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও উত্সাহিত হবে শিক্ষার্থীরা।’ ‘খুদে শিক্ষার্থীদের দৈহিক গঠন ও মেধাবিকাশে খেলাধুলা সহায়ক। খেলাধুলা শিশুদের সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এবং মুক্তচিন্তার সুযোগ তৈরি করে। মাঠের অভাবে শিশুরা বিদ্যালয়ে খেলতে না পারলে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ঘরকুনো হয়ে পড়বে।’

সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (সদর ক্লাস্টার) মো. তানভীর হাসান জানান, আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের জন্য খেলাধুলার মাঠ না থাকায় সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হলো—তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও কর্মক্ষমতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। শিশুদের এ ঘাটতি তাদের মানসিক অপরিপক্বতার কারণ। ভবন সমস্যার কারণে সরকারি নিয়মানুযায়ী পাঠদান করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

সহকারী শিক্ষা অফিসার (নারায়ণপুর ও ধলাইতলী ক্লাস্টার) সেলিনা বেগম জানান, জরাজীর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয় এবং বিদ্যালয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশ বজায় থাকে না। যার ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের মধ্যে ভয় বিরাজ করে। মাঠের অভাবে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলী মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় শিশুদের স্মার্টফোন এবং ইলেক্টনিক্স মিডিয়ায় তীব্র আসক্তি বাড়ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম শহীদুল হক মোল্লা জানান, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে মাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। খুদে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ না পেয়ে ঝিমিয়ে পড়ছে। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা উচিত। সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ ও ভবন সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে সেসব বিষয়ে আশু সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।