বিশ্বকাপ খেলতে চেয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স!

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৯, ২১:২৫

স্পোর্টস রিপোর্টার

এবারের বিশ্বকাপে এক ভয়ানক ভরাডুবির সামনে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টানা তিন ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছে তাদের। ঠিক এমনই সময় ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক বোমা ফাটাল। তারা জানাল, অবসর ভেঙে এই বিশ্বকাপ খেলার জন্য জাতীয় দলে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু তার সেই চাওয়া ফিরিয়ে দিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। এ নিয়ে আফসোসে আকাশ ভারী হওয়ার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাচক লিন্ডা জোন্ডি এক বিশাল বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তারা নীতিগত কারণেই ডি ভিলিয়ার্সের এই অনুরোধ বিবেচনা করেননি।

গত বছরের মে মাসে হঠাত্ করেই জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে নেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্স। তিনি বলেছেন, নিজেকে ও পরিবারকে আরো সময় দিতে এই সিদ্ধান্ত। সে সময় ও পরে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাচক, কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়রা বারবার অনুরোধ করেছিলেন ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলে যাওয়ার জন্য। সেই অনুরোধে কান দেননি ‘মিস্টার থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি’।

অবশেষে এই এপ্রিল মাসে নিজেই বিশ্বকাপ খেলার জন্য তত্পরতা শুরু করেন। ক্রিকইনফো জানাচ্ছে, অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস, প্রধান কোচ ওটিস গিবসন ও নির্বাচক কমিটির আহ্বায়ক লিন্ডা জোন্ডির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে গত এপ্রিলে ডি ভিলিয়ার্স জানান, তিনি জাতীয় দলে ফিরতে চান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ডি ভিলিয়ার্স যেদিন বিশ্বকাপ খেলতে চেয়ে অনুরোধ করেছেন, তার ২৪ ঘণ্টা পরই দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে।

এই খবর প্রকাশে এতটুকু বিব্রত নন প্রধান নির্বাচক জোন্ডি। তিনি বলেছেন, ডি ভিলিয়ার্সের অবসরে তারা যারপরনাই ধাক্কা খেয়েছিলেন। সে সময় তাকে আটকানোর চেষ্টাও করেছেন তারা, ‘আমি নিজে ২০১৮ সালে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে অবসর না নেওয়ার জন্য মিনতি করেছি। আমি তাকে একটা সুযোগ দিয়েছিলাম যে, বিশ্বকাপে সতেজ থাকার জন্য সে পরিকল্পনা করে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারে। তবে এটা বলেছিলাম যে, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে সিরিজ খেলতে হবে তাকে। সে তা না করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে চলে যায়।’

শেষ পর্যন্ত ডি ভিলিয়ার্সের এই সময়ে এসে ফেরার অনুরোধ কেন রাখতে পারেননি, সেটাও পরিষ্কার করে বলেছেন জোন্ডি। তিনি বলেছেন, গত এক বছর ধরে তার বিকল্প হিসেবে যাদের তৈরি করা হয়েছে, তাদের আহত করতে চাননি তারা, ‘গত এক বছরে সে (ডি ভিলিয়ার্স) কখনোই নিজেকে জাতীয় দলের জন্য পাওয়া যাবে বলে জানায়নি। যেদিন আমরা দল ঘোষণা করতে যাচ্ছি, তখন এই খবর পাওয়ার পর এটা আর কোনো অপশন হয়ে ওঠেনি আমাদের কাছে। কারণ আমাদের স্কোয়াড চূড়ান্ত ও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এবি নিঃসন্দেহে এই বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান। কিন্তু সবকিছুর ওপরে সত্য হলো, আমাদের নিজেদের নীতি ও আদর্শে আমাদের অটল থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই।’