জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরের পৌরসভার সাবেক মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহারকে দুদকের করা এক মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে বগুড়া জেলা আদালত। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও গোপন করার অভিযোগে করা এই মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইতে এলে তাদের কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেওয়া হয়। বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র বুধবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এই আদেশ দেন।
সাবেক মেয়র মাহফুজ জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শিমুল জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী ক্যাশিয়ার ছিলেন। তারা জয়পুরহাট পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া আলহেরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন।
দুদকের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ জানান, দুপুরের পরে আদালতে সাবেক মেয়র ও তার স্ত্রী হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। এ সময় বিচারক তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
এর আগে, গত ২৫ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নূর আলম।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সাবেক মেয়র গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। অভিযোগের পর তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দিতে বলে দুদকের বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়। ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই স্বামী-স্ত্রী হিসাব বিবরণী জমা দেন। সেই হিসাব বিবরণীর তথ্য অনুসন্ধান করে দুদক।
এতে দেখা যায় গোলাম মাহফুজ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮২১ টাকা পরিমাণ স্থাবর সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেন। এ ছাড়া তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে ৯৯ লাখ ১০ হাজার ৭৯৪ টাকার অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে। আর তার স্ত্রী কামরুন্নাহার শিমুলের হিসাবেও অবৈধভাবে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮২১ টাকা অর্জনের তথ্য খুঁজে পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে ৩৬ লাখ ৭ হাজার ১৬৪ টাকার অসঙ্গতি রয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক নূর আলম জানান, গোলাম মাহফুজ ও তার স্ত্রী কামরুন্নাহারের নামে জয়পুরহাটে একটি পাঁচ তলা ভবন রয়েছে। মূলত এই ভবনের আর্থিক মূল্য তারা গোপন করেছেন। জেলা গণপূর্ত দপ্তর থেকে ওই ভবনের মূল্যায়ন করে তার আর্থিক হিসাব বের করা হয়েছে। সহকারী পরিচালক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অবৈধ সম্পদ অর্জন, গোপন করার তথ্য উঠে আসায় দুদক আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে দুই জনের নামে আলাদা দুটি মামলা করা হয়েছে।
