কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার পালমে ডি’ অরকে নিঃসন্দেহে মর্যাদাপূর্ণ একটি অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এবারের ৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে এই স্বর্ণপাম পুরস্কারটি জিতেছে সুইডিশ পরিচালক রুবেন অস্টল্যান্ড’র ছবি ‘টায়াঙ্গেল অব স্যাডনেস’। এই গুণী নির্মাতার আগের ছবি ‘দ্য স্কয়্যার’ ২০১৭ সালেও পুরস্কার জিতেছিল।
এবারে স্বর্ণপাম বিজয়ী ‘ট্রায়াঙ্গল অব স্যাডনেস’ ছবিটির গল্পের বিষয়বস্তুতে আলাদা চমক ছিল। এ ছবিতে একজন মার্কসবাদী ইয়ট ক্যাপ্টেনের জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ-বেদনা, সুখ- দুঃখের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন কোরিয়ান তারকা সংকাং হো। জাপানি পরিচালক হিরোকাজু কোরে এদার চলচ্চিত্র ‘ব্রোকার’-এ অভিনয়ের জন্য সংকাং হো সেরা অভিনেতা বিবেচিত হয়েছেন। একটি কোরিয়ান পরিবার পরিত্যক্ত শিশুর জন্য একটি বাড়ি খুঁজছে। সেই বাড়ি খুঁজে বের করার কাজটি করতে গিয়ে মানবিক সম্পর্কেজড়িয়ে পড়া একজন মানুষের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন কোরিয়ান এই গুণী অভিনেতা। এবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতায় সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি নিজের ঝুলিতে পুরেছেন ইরানী অভিনেত্রী জার আমির-ইব্রাহিমি। ‘হোলি স্পাইডার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি সেরা অভিনেত্রী বিবেচিত হয়েছেন। ইরানের পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত মেয়েদের সিরিয়ার কিলিংয়ের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ‘হোলি স্পাইডার’ ছবিতে একজন দুঃসাহসী নারী সাংবাদিকের ভূমিকায় জার আমির ইব্রাহিমির হৃদয়ছোঁয়া অভিনয় সমালোচক বিচারক সাধারণ দর্শকদের সামনভাবে আলোড়িত করেছে। ‘পুরস্কার পাওয়াটা আমাকে নতুন করে জন্ম দিয়েছে। এ পর্যায়ে আসতে আমাকে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয়েছে। এটা খুব সহজ ব্যাপার ছিল না আমার জন্য। নারীদের নিয়ে নির্মিত এ ছবির অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত’ উচ্ছ্বাস ভরা কণ্ঠে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ইরানীএই অীভনেত্রী। এবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে সবচেয়ে বেশি আধিপত্য দেখিয়েছে কোরিয়ান ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। বেশিরভাগ পুরস্কার তারা জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। তারা বিভিন্ন চলচ্চিত্রের জন্য একাধিক পুরস্কার জিতেছেন। এবার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পাওয়া কোরীয় অভিনেতা সং কাং হো’র আগে বহুল আলোচিত কোরীয়ছবি ‘প্যারাসাইট’-এ একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের বিশেষ নজর কেড়েছিলেন। তবে এবার
৭৫তম কান চলচ্চিত্র উৎসব আসরে অন্যরকম আলো ছড়িয়েছে পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ‘জয়ল্যান্ড’। এ ছবিটিকে পাকিস্তানি চলচ্চিত্রে নতুন বিপ্লবী জাগরণ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম যোগ দিয়ে জুরি পুরস্কার লাভ করার মাধ্যমে দারুণ চমক সৃষ্টি করেছে পাকিস্তান। সাইম সাদিকের ‘জয়ল্যান্ড’ ছবিতে যে বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে তা পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের জন্য রীতিমতো সাহসী পদক্ষেপ বলা যায়। এ ছবিটি পাকিস্তানি চিত্রনির্মাতাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে বলা যায়। নতুন সম্ভাবনার আলো নিয়ে তারা আবারও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আসরকে আলোকিত করবেন— কান উৎসবে আগত বিভিন্ন চলচ্চিত্রবোদ্ধা,সমালোচক, তারকা, কলাকুশলী, সাংবাদিক এমনটিই আশা প্রকাশ করেছেন।
