তিনশো সংসদীয় আসনের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৩৬টি আসনে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়নি। দলটি ২৬৪ আসনে ২৮১জনকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপি ২৯৫ আসনে ৬৯৬ জনকে দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। আর ৫টি আসনে দলীয় কোন প্রার্থী দেয়নি। আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি। এবারই প্রথম নিবন্ধিত ৩৯টি দলের সবকয়টিই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এবার নির্বাচনে ৩ হাজার ৬৫জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৬৭জন রাজনৈতিক দলের এবং ৪৯৮জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। ১৭টি আসনে দুইজন করে প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ইসির প্রস্তুতকৃত তালিকা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বুধবার ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০৫৬ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছিল। তড়িঘড়ি করে হিসাব দেওয়ায় গড়মিল হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরো ৯টি মনোনয়ন বেড়েছে। মোট ৩০৬৫জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
গত বুধবার ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষদিন। ২ ডিসেম্বর মনোনয়ন বাছাই এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর। ১০ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে। ৩০ ডিসেম্বর এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। অনেক প্রার্থী দলের চিঠি ছাড়াই দলীয়ভাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছে। চিঠি সংযুক্ত না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর হিসাবের মধ্যে আনতে হয়েছে। এজন্য গতকাল দিনভর মনোনয়নের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ইসি কর্মকর্তাদের। সব দলের এবার নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনও গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এবার সবগুলো দল মনোনয়ন জমা দেওয়ায় তারা একে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সার্বক্ষণিক সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইসির হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (নৌকা) ২৮১ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি (ধানের শীষ) ৬৯৬, জাতীয় পার্টি -জাপা (লাঙ্গল) ২৩৩, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ১৭, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি (কাস্তে) ৭৭, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মই) ৪৯, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (মশাল)-৫৩, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৬১, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ৩৭, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (তারা) ৫১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) ২৯৯, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ২৬, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৭, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (ছাতা) ১৫, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এমএল (চাকা) ৩, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ৮,বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (কুড়েঘর) ১৪, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ১০৮,বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি (গরুর গাড়ি) ১১, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ২০, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) ৪৯, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (আম) ৯০, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) ১৫, গণফ্রন্ট (মাছ) ১৬, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপি (বাঘ), বাংলাদেশ ন্যাপ (গাভি) ৪, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩, ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ২৮, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ৫, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৩২, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিম (রিকশা) ১২, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ২১, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা (হুক্কা) ৬, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (কোদাল) ৩০,খেলাফত মজলিশ (দেয়ালঘড়ি) ১২,বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল (হাতপাঞ্জা) ১৭, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি)-একজন ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফের (টেলিভিশন)-৭১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
উল্লেখ্য, দশম সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে ১২টি দল অংশ নেয়। নবম সংসদে ৩৯টির মধ্যে ৩৮টি অংশ নিয়েছিল। মূলত ২০০৮ সাল থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রথা চালু হয়।
