ঈদ-পরবর্তী স্বস্তি ও সতর্কতা

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৯, ২২:০৫

প্রতিবত্সরের মতো এইবারও রমজানের অপূর্ব আবহের অন্তিমে যথারীতি আসে শাওয়ালের বাঁকা চাঁদ। যদিও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার জন্য এইবার শাওয়ালের চাঁদ দেখিবার বিষয়টি লইয়া ধোঁয়াশা তৈরি হয়। ইহা লইয়া ঈদের দিন অবধি বিভিন্ন ধরনের পোস্ট ঘোরাফেরা করিতে দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের টাইমলাইনে। ঈদের দিন প্রায় সারা দেশেই কমবেশি বৃষ্টি হইয়াছে। প্রাক্বর্ষার বৃষ্টিতে গরমে স্বস্তি আসিলেও ঈদের আনন্দের ঘোরাঘুরিতে কিছুটা ছেদ পড়িয়াছে। যদিও বাংলাদেশে এখন ঈদের আনন্দ কেবল ঈদের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। ঈদের তিন দিনের সরকারি ছুটির সহিত আরো দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হইবার কারণে ঈদের অবকাশযাপন এইবার দীর্ঘ হইয়াছে। ইহার সহিত অনেকে আরো কয়েকটি দিন বাড়তি ছুটি লইয়া থাকেন। ফলে, ঈদের মহামিলনের ও অবকাশযাপনের রেশ ঈদ-পরবর্তী আরো পাঁচ-সাত দিন অতিরিক্ত থাকিয়া যায়।

অতিরিক্ত জনবহুল দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক রাস্তাঘাটের অভাবে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চাপ সারা বত্সরই বেশি থাকে। ঈদের মতো বড় উত্সবের সময় সেই চাপ বহুগুণ বাড়িয়া যায়। এই কারণে প্রায় প্রতিবত্সরই ঈদের সময় দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এইসকল দুর্ঘটনা ঈদের হরিষের মধ্যে বিষাদ ঘনাইয়া আনে। তবে স্বস্তির কথা হইল, অতীতের ঈদগুলির তুলনায় এইবারের ঈদে মানুষ ঘরে ফিরিয়াছে অনেক বেশি স্বস্তির সহিত। ঈদের পূর্বে বেশ কয়েকটি সেতু ও ফ্লাইওভার চালু হইবার কারণে ভোগান্তি কমিয়াছে সড়কপথে ঘরে ফিরা মানুষের। টার্মিনাল হইতে বেশিরভাগ বাস ছাড়িয়াছে নির্ধারিত সময়ে। অন্য বত্সরগুলির তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা এইবার খুব কম ঘটিলেও সিরাজগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নাটোরে শিশুসহ ১৮ জন নিহত হইয়াছে। অন্যদিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে অবশ্য অতিরিক্ত যাত্রী লইয়া দক্ষিণাঞ্চলগামী লঞ্চ ছাড়িবার অভিযোগ রহিয়াছে অতীতের মতোই। সড়কে ও জলপথে শিডিউল মোটামুটি ঠিক থাকিলেও ঈদের কয়েক দিন আগে হইতেই নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয় ঘটিয়াছে বাংলাদেশ রেলের সময়সূচিতে। যদিও বাংলাদেশের ট্রেন যেইসকল প্রতিকূলতা লইয়া পরিচালিত হয়, তাহাতে একটু দেরি হইলেও ঠিকভাবে গন্তব্যে পৌঁছানোটাও কম স্বস্তির কথা নহে। অর্থনৈতিকভাবে আমাদের সামর্থ্য বৃদ্ধি পাইবার কারণে আনন্দ-অবকাশের জায়গাগুলিতে ঈদ-পরবর্তী সময়ে বরাবরের মতোই এইবারও ব্যাপক ভিড় পরিলক্ষিত হইতেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী কেহ কেহ ঈদের পর পরিবারসমেত আনন্দ উদ্যাপন করিতে ছুটিয়াছেন দেশের বাহিরেও। এই ক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ ভারত। ভারতে যাইবার প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলে গতকাল শুক্রবার দেখা গিয়াছে ব্যাপক ভিড়। ইহার বাহিরে অনেকেই থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান, সিঙ্গাপুরও ঘুরিতে গিয়াছেন ঈদের এই অবকাশে। 

আমরা অতীতে দেখিয়াছি, ঈদের পরপর যেই হারে দুর্ঘটনা ঘটে, তাহা ঈদের অব্যবহিত পূর্বের দুর্ঘটনার সংখ্যার চাইতে বেশি হইয়া থাকে। তাহার উল্লেখযোগ্য কারণ হইল— এই সময়টায় মহাসড়কে যানজট থাকে না বিধায় চালকরা গাড়ি চালনায় বেপরোয়া হইয়া উঠেন। আমরা আশা করিব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঈদের আগের মতোই ঈদ-পরবর্তী দুর্ঘটনা হ্রাসে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।