কে কে’র হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু: কার্ডিয়াক সমস্যার লক্ষণ ও সতর্কতা

আপডেট : ০২ জুন ২০২২, ১৪:৪৭

সঙ্গীতশিল্পী কৃষ্ণকুমার কুন্নাফ ওরফে কে কে-র অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ আসমুদ্রহিমাচল। মাত্র তিপ্পান্ন বছর বয়সে কে কের এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না সঙ্গীতজগত এবং ভক্তকুলের অনেকেই। মঙ্গলবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে শেষবারের মতো সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে হোটেলে ফিরতেই হঠাৎ অসুস্থ অনুভব করেন তিনি। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, কনসার্ট চলাকালীন অবস্থাতেই এই সঙ্গীতশিল্পী অসুস্থবোধ করছিলেন। পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। 

বর্তমান সময়ে হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা কমবয়স্কদের ক্ষেত্রেও ঘটতে দেখা যাচ্ছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে মানুষের টনক নড়তে শুরু করেছে বেশ কয়েকজন তারকার আকস্মিক মৃত্যুতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষনগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারা এবং তাৎক্ষনিক সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। 

বর্তমান সময়ে হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা কমবয়স্কদের ক্ষেত্রেও ঘটতে দেখা যাচ্ছে

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত, 'আপনি আপনার জীবন সুস্থভাবে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিলে তার ফলাফল ভোগ করতে পারবেন অনেকদিন। একবার মাইনর হার্ট অ্যাটাক হলেও নিয়মতান্ত্রিক জীবনে ফিরে এলে যেকোনো ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।' 

এছাড়াও ভারতের সিমবায়োসিস হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার অঙ্কুর পাথারপেকার জানান, 'খারাপ কিংবা বাজে খাদ্যাভ্যাসের ফলে বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা থাকে। আমরা সবাই জানি সুস্থতার জন্যে সুস্থ লাইফস্টাইল মেনে চলা জরুরি। তবুও আমরা সুস্থ লাইফস্টাইল গড়ে তোলার ছোট ছোট বিষয়গুলো এড়িয়ে চলি। এমন খামখেয়ালিপনার ফলেই ঘটে যেতে পারে আকস্মিক বিপদ।'

এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন কারো পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোনের কারো হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকলে তারও উচিত ৩০ বছরের পর নিয়মিত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো। এ বিষয়ে তারা বলেন, 'সামান্য ব্লাড টেস্ট আর ইসিজি করিয়ে নিজের হৃদপিণ্ডের অবস্থা নিয়মিত দেখা উচিত। কারো বাবা-মার যদি হার্ট অ্যাটাকের হয়ে বাইপাস সার্জারি করানো হওয়ার ইতিহাস থাকে, তাহলে সন্তানকে সতর্ক থাকতে হবে। নিয়মিত করোনারি এনজিওগ্রামের সিটি স্ক্যান, ক্যালসিয়াম স্কোরিং এবং লিপিড টেস্ট করা উচিত।'  

  আপনার হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত টেস্ট করুন

কি ধরণের টেস্ট করবেন?

আপনার হার্ট সুস্থ আছে কিনা বুঝবেন কিভাবে? রয়েছে তিনটি টেস্ট: 

  • লিপিড প্রোফাইল টেস্ট
  • ট্রেডমিল টেস্ট
  • আপনার ডায়বেটিস আছে কি নেই

ডাক্তার চন্দ্রশেখরের মতে, '৩৫ বছরের ওপরে যাদের বয়স, তাদের উপরের টেস্টগুলো করানো উচিত। যদি টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ আসে তাহলে প্রতি পাঁচ বছর পর পর আবার করানো উচিত। যদি রেজাল্ট পজিটিভ আসে, তাহলে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।' 

হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণ:  

হার্ট অ্যাটাকের অসংখ্য লক্ষণ এবং কারণ চিকিৎসকরা খুঁজে বের করেছেন। তারমাঝে কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো: 

  • বুকে অস্বাভাবিক ব্যথা শুরু হলে
  • হজমের সমস্যা, হার্টবার্ন, মাথা ঘুরানো এবং তলপেটে ভীষণ ব্যথা হলে
  • বুকে ব্যথা শুরু হয়ে বা দিকের হাতে ছড়িয়ে পড়লে
  • ভীষণ ক্লান্তি এবং প্রচন্ডভাবে ঘামতে শুরু করলে
  • অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন
  • কোনো কারণ ছাড়া কাশি হতে শুরু করলে

 

হার্ট অ্যাটাক এড়াতে ফল এবং সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

হার্ট অ্যাটাক এড়াতে যে ডায়েট অনুসরণ করবেন

  • বেশি বেশি ফল এবং সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন
  • হোলগ্রেইন বা হাই-ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খান
  • সম্ভব হলে ঘরেই খাওয়ার চেষ্টা করুন
  • তেল ও মশলা কম দিয়ে খাবার রান্না করুন
  • খাবারে লবণের ব্যবহার কমান
  • সপ্তাহে অন্তত দুদিন লিন মিট অর্থাৎ মাছ বা মুরগী খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন 

 

হৃদপিণ্ডের সুস্থতায় নিয়মিত ইয়োগা করতে পারেন

হৃদপিণ্ডের সুস্থতা নিশ্চিতে যা করবেন

  • নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন। এমনকি কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকলেও নড়াচড়া করুন।
  • ধূমপান, মদ্যপান ইত্যাদি বদভ্যাস পুরোপুরি ত্যাগ করুন
  • তামাক জাতীয় খাবার পরিহার করুন।
  • দেহে অতিরিক্ত মেদ থাকলে তা ঝরিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন। জিমে ভর্তি হতে পারেন। আর সে সুযোগ না থাকলে সকালে ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • নিজেকে স্ট্রেসমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন
  • ইয়োগা প্র্যাকটিস করতে পারেন।
ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন