বিনোদনকেন্দ্রে প্রাণের মেলা

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৯, ২২:০৮

ঈদের ছুটির সঙ্গে যোগ হয়েছে দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি। এ কারণে বেড়ানোর সুযোগও মিলেছে বেশি। ছুটি কাটাতে রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছে নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। ঈদের দিন বৃষ্টি হওয়ায় আবহাওয়া অনেকটা শীতল ছিল। তাই মানুষের মধ্যেও ছিল এক ধরনের উচ্ছ্বাস। আজ শনিবারও বিনোদনকেন্দ্রে প্রচণ্ড ভিড় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রের মধ্যে চিড়িয়াখানা, বোটানিকাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, ওসমানী উদ্যান, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, লালবাগের কেল্লা, জাতীয় সংসদ ভবন, আহসান মঞ্জিল, হাতিরঝিলে দর্শনার্থীদের ভিড়। ভিড় ঠেলে বিনোদনকেন্দ্রে আনন্দ উদযাপনে নানা ভোগান্তিও ছিল। কিন্তু সবাই ছিল উচ্ছ্বসিত। শুধু রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো নয়, বাইরের বিনোদনকেন্দ্রেও ভিড় জমিয়েছে ঢাকাবাসী। নারায়ণগঞ্জের ড্রিম হলিডে পার্ক, নন্দন, ফ্যান্টাসি কিংডমে ছিল লক্ষণীয় ভিড়।

নারায়ণগঞ্জের ড্রিমল্যান্ড পার্কে রাজধানী ছাড়াও সাভার, মানিকগঞ্জ, ভালুকা, মুন্সীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। এই পার্কের সবগুলো রাইডেই ছিল দীর্ঘ লাইন। এই পার্কে ভালুকা থেকে আসা রমিজ মিয়া জানান, ঈদের পর দিন কোথাও যেতে হবে। তাই এখানেই এলাম। ঢাকা থেকে দুই সন্তান স্ত্রীসহ আসা শরিফুল আলম বলেন, গতবারও এখানে এসেছি। ভালো লেগেছে। তাই সন্তানদের আবদার পূরণ করতেই এখানে আবারও এলাম।

ঈদ আনন্দ যেন উপচে পড়ছে রাজধানীর হাতিরঝিলে। ভিড় ছিল গতকাল পর্যন্ত। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিদিনই হাতিরঝিলে ভিড় থাকে। ঈদ উপলক্ষে এই ভিড় শতগুণ বেড়ে যায়। প্রায় লক্ষাধিক লোক ঈদের দিন থেকে প্রতিদিন এসে আনন্দ উচ্ছ্বাস করছেন বলে তারা জানিয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে হাতিরঝিলও যেন সেজেছে নতুন সাজে।

সবার পরিচিত হওয়ায় মিরপুরের ঢাকা চিড়িয়াখানায় ছিল প্রচণ্ড ভিড়। বিশেষ করে বাবা মায়ের সাথে শিশু-কিশোরদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে প্রবেশ করেন দর্শনার্থীরা। দীর্ঘ ভিড়ে স্বজনদের হারিয়ে ফেলেন অনেকেই। ফলে ভেতরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে খুঁজে পান হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের।

রাজধানীর উত্তরা থেকে বেড়াতে আসা রফিকুল আলম বলেন, ‘এখানে অনেকবার এসেছি। কিন্তু সন্তানদের পছন্দের তালিকা আছে চিড়িয়াখানা। এ কারণে এসেছি। বানরের বাঁদরামো, ভেংচি কাটা, আর লাফালাফি শিশুসহ প্রাণভরে উপভোগ করেছি সবাই।’ এর বাইরে ভালুক, জিরাফ, হাতি, হরিণ, ময়ূরসহ চিড়িয়াখানার সবগুলো খাঁচার সামনেই ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। আর পার্শ্ববর্তী বোটানিকাল গার্ডেনেও অনেকেই বেড়াতে যান বন্ধুদের নিয়ে।