ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিমে অবস্থিত বোরোদিয়াংকা। বুচা থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ আগ্রাসন শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই শহরটি দখল করে রুশ বাহিনী। গত সপ্তাহে সেখান থেকে সরে যায় তারা।
রুশ সৈন্যরা চলে যাওয়ার পর পালিয়ে যাওয়া বাসিন্দারা ধীরে ধীরে শহরটিতে ফিরতে শুরু করেছেন। বিমান হামলা ও মর্টার শেলের আঘাতে শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রায় কোনো ভবনই এখন আর আস্ত নেই।
বোরোদিয়াংকার বাসিন্দারা ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের ধ্বংসাবশেষে মরদেহ ও জিনিসপত্রের সন্ধান করছেন। শহর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বুচা শহরে বেসামরিক নাগরিকদের রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বোরোদিয়াংকায় বেসামরিক নাগরিকদের বাসাবাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বোরোদিয়াংকা শহরের বাসিন্দা ভাদিম জেগ্রেবেলনি জানিয়েছেন, তার মা, ভাই এবং অন্য স্বজনেরা একটি ভবনের বেসমেন্টে আশ্রয় নেয়ায় বেঁচে গেছেন। কিন্তু ভবনটির ওপরের তলাগুলোতেও বোমাবর্ষণের সময় মানুষ ছিলেন৷ এবং তারা আর বের হতে পারেননি।
টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে জেলেনস্কি বুচার চেয়ে বোরোদিয়াংকার পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখানে পরিস্থিতি আরো খারাপ। রুশ দখলদাররা আরও বেশি মানুষকে হতাহত করেছে এখানে।’ তবে হতাহতের কোনো সংখ্যা বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি দাখিল করেননি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউক্রেনে রাশিয়ান সেনাদের ভয়ংকর নৃশংসতার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারে স্থাপন করা নুরেমবার্গে ট্রাইব্যুনালের মতো একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
