সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়ক
হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, স্টাফ রিপোর্টার সিলেট ও আহসান হাবিব, দক্ষিণ সুরমা সংবাদদাতা
সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কটি ভেঙেচুরে আছে দীর্ঘদিন থেকে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এই পথে চলাচল করে থাকে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান এই পর্যটন এলাকায় লোকজনের আসা-যাওয়ার কমতি নেই। জাফলং-এর পাথুরে হ্রদের সৌন্দর্য, জৈন্তার রাজবাড়ী, খাসিয়া পুঞ্জি, পিয়াইন নদীর স্ফটিক স্বচ্ছ জল, খাসিয়া পাহাড়ের সফেদ ঝর্ণাসহ সিলেটের আকর্ষণীয় স্থানগুলো দেখতে আসেন লোকজন। কেউবা তামাবিল স্থলবন্দর ও মেঘালয়ের শিলং হয়ে ভারত, ভূটান ভ্রমণে যান। কিন্তু খানাখন্দে ভরা সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের কারণে এলাকায় আগত প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে সেখানকার নৈসর্গিক সৌন্দর্য ম্লান হতে বসেছে। বিভিন্ন যানবাহনে আসা যাত্রীরা ভাঙা রাস্তায় প্রচণ্ড ঝাঁকির কারণে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভালোভাবে উপভোগ করতে পারেন না। অবশ্য দেরিতে হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়কটির উন্নয়নে ১২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে যেটি আগামী একবছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের স্থানে স্থানে বিপজ্জনক মোড় রয়েছে। জাফলং, মামার বাজার, বল্লাঘাট, তামাবিল স্থলবন্দর, রাধানগর, সারী গোয়াইনঘাট এলাকায় এই সড়কে খানাখন্দের পরিমাণ অনেক বেশি। অনেক স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো পানিতে ভরে গেলে চলাচল আরো বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গর্তের কারণে রাস্তার কোনো কোনো অংশ চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙা রাস্তার কারণে বেশি বিপাকে রয়েছে এলাকার লোকজন। বৃষ্টির সময় পরিবহন শ্রমিক, বিশেষ করে তামাবিল স্থলবন্দরের শ্রমিকরা পড়ে যান দারুণ সমস্যায়। মালামাল ওঠাতে নামাতে হাঁটু গেড়ে যায় কাদায়। কিছু কিছু জায়গায় রাস্তার ভাঙা অংশে ইট বিছিয়ে সেটিকে যান চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা হলেও বৃষ্টি ও পাথরবাহী ট্রাক ইটগুলোকে ভেঙে খানখান করে দিচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তামাবিল বিজিবি সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্র থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর, মামার বাজার, বল্লাঘাট বাজার পর্যন্ত রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো পানিতে ভরে গিয়ে পুকুরে রূপ নিয়েছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ভাঙা রাস্তার কারণে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতিশীলতা কমে এসেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, সিলেট-তামাবিল-জাফলং মহাসড়কটির ১৬ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে ১২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে এর কাজ শুরু হয় এবং ২০২০ সালের জুন মাসে এটি শেষ হওয়ার কথা। সওজের সাব-ডিভিশনাল প্রকৌশলী মো. আনিস রহমান বলেন, ‘কাজ চলছে পুরোদমে। তবে বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হবে আশা করি।’ তিনি জানান, এ পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি ৩৫ শতাংশ। সওজ জানায়, এই সড়কের শুক্রবারী বাজার, হরিপুর, জৈন্তা সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। ঈদের আগেই শেষ হয়ে যাবে।
বিমানবন্দর বাইপাস সড়ক শেষ হতে
আরো একবছর
সিলেট বিভাগের সবচাইতে ব্যয়বহুল সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করতে আরো একবছর বেশি সময় লাগবে। কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুন নুর জানান, এ সড়কের অনেক অংশ মেরামত হয়নি বলে লোকজনকে চরম সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। কোম্পানীগঞ্জের আবুল মিয়া জানান, ভোলাগঞ্জ সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার লাভ করবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। সিলেট সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আনোয়ার আমিন ইত্তেফাককে বলেন, ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের সাড়ে ২৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। মোট কাজের অগ্রগতি ৭০ ভাগ। এবছর জুনে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও আরো একবছর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৬২৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। কিলোমিটার প্রতি ব্যয় হচ্ছে ২০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। ২০১৬ সালের জুন থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
