যুক্তরাষ্ট্র অভিমুখী অভিবাসীদের চাপ মোকাবিলা

গুয়াতেমালা সীমান্তে ছয় হাজার সেনা মোতায়েন মেক্সিকোর

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ০০:২৪

যুক্তরাষ্ট্র অভিমুখী অভিবাসীদের ঠেকাতে গুয়াতেমালা সীমান্তে ছয় হাজার সেনা মোতায়েন করেছে  মেক্সিকো। অবৈধ অভিবাসী ইস্যুতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসনকে মেক্সিকোর পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ থেকে নিবৃত্ত করতে সেদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবরার্ড এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সমঝোতা না হলে গত সোমবার মেক্সিকোর পণ্যের ওপর ৫ ভাগ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বুধবার তিনি বলেছেন, চুক্তির ব্যাপারে ভালো অগ্রগতি হয়নি। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ আলোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবরার্ড বলেন, তিনি একজন আশাবাদী মানুষ। তিনি বলেন, মেক্সিকোর দক্ষিণে গুয়াতেমালা সীমান্তে অভিবাসীদের ঠেকাতে সেনা অবস্থান করবে।

প্রত্যক্ষদর্শী দাতব্য সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে মোতায়েন করা বাহিনী বুধবার শত শত অবৈধ অভিবাসীকে সীমান্ত অতিক্রম করতে বাধা দিয়েছে। কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে। সীমান্ত শহর মেটাপা থেকে সালভা ক্রজ বলেন, ‘হ্যাঁ, এখানে এত বেশি সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের ঘটনা নতুন।’ দারিদ্র্য এবং যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে উন্নত জীবনের আশায় মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস ও এল সালভাদর থেকে হাজার হাজার মানুষ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছে।

দক্ষিণ সীমান্তে জড় হওয়া ওই অভিবাসীদের ‘সংকট’ বলে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। অবৈধ অভিবাসীদের আটকাতে ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে সেনা পাঠিয়েছেন এবং মধ্য আমেরিকার তিন দেশের জন্য বরাদ্দ বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও প্রতিদিনই শত শত মানুষ মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে জড় হচ্ছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, মেক্সিকোর প্রচ্ছন্ন মদদে গণহারে অবৈধ অভিবাসীরা সীমান্তে জড় হতে পারছে। তাই মেক্সিকো সরকারের উপর চাপ বাড়াতে গত ৩১ মে তিনি দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের পণ্য প্রবেশে শুল্কারোপের হুমকি দেন। ওই দিন এক টুইটে তিনি বলেন, ‘আগামী ১০ জুন থেকে ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে এবং অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ সমস্যা সামাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে তা ৫ শতাংশ করে বাড়বে। সমস্যার সমাধান হলে শুল্ক তুলে নেওয়া হবে।’

ট্রাম্পের হুমকির পরপরই সংকট সমাধানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন। হোয়াইট হাউজে চলা ওই আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হলে আগামী সপ্তাহের সোমবার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা মেক্সিকোর গাড়ি, বিয়ার, টাকিলা মদ, ফল ও শাক-সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপিত হবে। এ হারে চলতে থাকলে পাঁচ মাস পর মেক্সিকো থেকে আমদানি করা ওই পণ্যগুলোতে শুল্কের পরিমাণ ২৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে।