দুই বছরে তিন দফা সময় বাড়িয়েও যশোরের ভৈরব নদ খনন নির্ধারিত ২২ জুনের মধ্যে শেষ হচ্ছে না। গত এক বছরের বেশি সময় স্থবির হয়ে আছে কাজ। এই স্থবিরতার জন্য বার বারই ‘বৃষ্টিকে অজুহাত’ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। এবারও বৃষ্টির অজুহাতে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না এবং সময় আরো এক বছর বাড়ানো দরকার বলে মন্ত্রণালয়ে সময় আবেদন পাঠিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম।
২০১৬ সালে ২৭২ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুরু হয় পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’। প্রকল্পের আওতায় ৯২ কিলোমিটার নদ খনন করার কথা।
পাউবো সূত্র মতে, ভৈরব নদ খনন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২০ সালের ২০ জুন শেষ হয়। এরপর তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে ২০২২ সালের ২২ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ হয়েছে। কিন্তু শহর ও শহরতলীর প্রায় ১০ কিলোমিটার খননকাজ বাকি রয়েছে। এরমধ্যে শহরের নীলগঞ্জ থেকে দড়াটানা হয়ে বিরামপুর পর্যন্ত খনন ধীরগতির কারণে শেষ হয়নি। আবার শহরের মূল অংশে নদের দুই তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খননকাজ চালাচ্ছে পাউবো। এতে সরু এক খালে পরিণত হয়েছে ভৈরব নদ।
পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বারবার বৃষ্টি হওয়ার কারণে ভৈরবে অনেক পানি জমেছে বলে আমরা কাজ শুরু করতে পারিনি। কাদা-ময়লা-আবর্জনার জন্য খনন ব্যাহত হচ্ছে। নদ থেকে উঠানো কাদা না শুকিয়ে পাড় থেকে অপসারণ করা যাচ্ছে না।’ এদিকে নদের পাড়ে স্তূপ করে রাখা মাটি দিয়ে অবৈধ দখলদার মহলটি নদের পাড় ঘেঁষে রাস্তা নির্মাণ করেছে। অবৈধ ভবনের ভাঙন রোধেই এই রাস্তা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, শহরের বাবলাতলা সেতু থেকে নীলগঞ্জ সেতু পর্যন্ত চার কিলোমিটার নদের তীরের অধিকাংশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়নি। শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা সেতু ও কাঠেরপুল সেতু অংশে নদের দুই তীরে অন্তত সাতটি বহুতল ভবন রয়েছে। এছাড়া অন্তত ৩০টি স্থাপনার আংশিক অংশ ও সীমানা প্রাচীর নদের জায়গার মধ্যেই রয়েছে, যা উচ্ছেদ করা হয়নি। দড়াটানা সেতুর পশ্চিমাংশের ৮৪টি স্থাপনা উচ্ছেদ করায় নদের প্রস্থ এখন ২২০-২৫০ ফুট। কিন্তু পূর্বাংশে উচ্ছেদ না করায় প্রস্থ ১৭০-১৯০ ফুট।
এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘২০১৮ সালের প্লাবনভূমি আইন অনুযায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্য পূর্বানুমতি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আগে যেসব নির্মাণ হয়ে গেছে, সেগুলোর ব্যাপারে কী করণীয় তা নিয়ে আমরা নিজেরাই ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছি। এ নিয়ে দুই বছর আগে একটি কমিটিও গঠিত হয়েছে। কিন্তু কমিটি এখনো বসতে পারেনি।’ কমিটির সদস্যসচিব যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তুষার কান্তি পাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এমন কমিটির কথা আমার জানা নেই।’
ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ভৈরব নদ খননের ক্ষেত্রে ফোরশোর আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে বলেই অবৈধ স্থাপনা সুরক্ষা পেয়েছে। নদের দুই পাশে কিছুটা গভীরতা থাকলেও মাঝখানে বুক উঁচু হয়ে রয়েছে। মাঝখান উঁচু হয়ে থাকার কথা স্বীকার করে পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, আরেকটি ভারী মেশিন আনা হচ্ছে, যা দিয়ে নদের মাঝখানে কাটা হবে।
