বৃষ্টি উপেক্ষা করে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগায় দেশের সর্ববৃহত্ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর এ ঈদগায় অনুষ্ঠিত হয় ১৯২তম জামাত। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এবারও লাখো মানুষের ঢল নামে। ছাতা নিয়ে ঈদগায় মুসল্লিদের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও বৃষ্টির কারণে কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল করা হয়। অনেকেই মাথায় পলিথিন দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। মাঠে পানি জমে থাকায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে কিছুটা সমস্যা হয়। সকাল থেকেই মুসল্লিরা ঈদগায় আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহমুখী বিভিন্ন সড়কে মানুষের ঢল নামে। ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন সকাল ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ স্টেশনে এসে থামে। নামাজ আদায়ের পর মুসল্লিদের নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে দুটি ট্রেনই গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে যায়।
ঈদের জামাত শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল ১০টায়। কিন্তু ইমাম মাঠে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় নামাজ শুরু হয় ১০টা ২৫ মিনিটে। রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিন রাউন্ড, ১০ মিনিট আগে দুই রাউন্ড এবং এক মিনিট আগে এক রাউন্ড বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছুড়ে মুসল্লিদের নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শুরুতে বিলম্ব হওয়ার কারণে বৃষ্টিতে ভেজা মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এদিকে মুসল্লিদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এবছরও জামাতে ইমামতি করেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
