নোয়াখালীতে গাছে বেঁধে নারীসহ দুই শ্রমিককে নির্যাতন, গ্রেফতার ১

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৯, ২২:৪০

পরকীয়ার অভিযোগ তুলে ইটভাটার এক নারী ও এক পুরুষ শ্রমিককে গাছে বেঁধে প্রকাশ্যে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। এ সময় পুরুষ শ্রমিকের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের বুদ্দিনগর গ্রামে। জাফর নামে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিত্সক ও তার কয়েক সহযোগী মিলে এ ঘটনা ঘটায়। ওই নারী ও পুরুষ শ্রমিকের নির্যাতনের ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় বুধবার রাতে নির্যাতিতা ওই নারী আট জনের বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান আসামি জাফর (৩৫) নামের এক গ্রাম্য চিকিত্সককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সে ওই গ্রামের মৃত তাজুল ইসলামের ছেলে। দুই খণ্ডে মোবাইলে ধারণকৃত পাঁচ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, পুরুষ শ্রমিককে (আবদুল আলী, ৩২) গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে নারী শ্রমিককে (ফাতেমা, ২৭)। প্রথমে নারী শ্রমিককে ওই গ্রাম্য চিকিত্সক জাফর একটি লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। পরে গাছের সাথে বেঁধে রাখা পুরুষ শ্রমিককেও মারতে থাকে। এভাবে কয়েক দফায় তাদের দুজনকে মারধর করা হয়। জাফরের সঙ্গে থাকা জাহাঙ্গীর, ইয়ার আহাম্মদ, সেলিম, গিয়াস উদ্দিনসহ আরো কয়েকজনও তাদের মারধর করে। এক পর্যায়ে পুরুষ শ্রমিককে বেঁধে রাখা অবস্থার তার মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ভিডিওটি গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে পৌঁছার পর খবর নিয়ে জানা যায়, নির্যাতিত ওই পুরুষ শ্রমিক জেলা শহর মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। পরে বুধবার সন্ধ্যায় তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, নির্যাতিতা নারী মামলা দায়ের করলে অভিযুক্ত জাফরকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে তিনি জানান।