৪৩ বছরেও হলো না ফুলবাড়ী উপশহর!

আপডেট : ০৬ জুন ২০২২, ১১:০০

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরের আবাসন সমস্যা সমাধানকল্পে ‘ফুলবাড়ী উপশহর’ গড়ে তুলতে শহরের প্রাণকেন্দ্র গৌরীপাড়া এলাকায় ১২ একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সাড়ে তিন যুগ অতিবাহিত হলেও এখনও উপশহর গড়ে ওঠেনি। ইতোমধ্যেই অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যে কিছু জমি ব্যক্তিবিশেষের দখলে চলে গেছে আর অবশিষ্ট যেটুকু রয়েছে, সেটি এখন দিনের বেলায় বখাটেদের আড্ডা আর সন্ধ্যার পর নেশাখোরদের নিরাপদ চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। 

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮-৭৯ অর্থ বছরে ল্যান্ড অ্যাকোয়ার (এলএ) ৩৮/১১ নম্বর কেসের মাধ্যমে ওই ১১ দশমিক ৭৯ একর জমি অধিগ্রহণ করে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি ৪৩ বছর আগে জমি অধিগ্রহণ করলেও এখানে গড়ে তুলতে পারেনি উপশহর। এরইমধ্যে ১৯৯১ সালে অধিগ্রহণকৃত এই জমি একসনা চুক্তিতে বন্দোবস্তো দেওয়া হয়েছিল উপজেলা পরিষদকে। 

এ বিষয়ে সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশের কোথাও এক ইঞ্চি জায়গাও পতিত অবস্থায় ফেলে না রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশের পরও ১১ দশমিক ৭৯ একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে যুগের পর যুগ ধরে। ফলে ইতোমধ্যে কিছু জায়গা ব্যক্তি বিশেষের দখলে চলে গেছে এবং অবশিষ্ট অংশে বখাটে ও নেশাখোরদের নিরাপদ বিচরণভূমিতে পরিণত হয়েছে। ইতোপূর্বে পৌরসভার পক্ষ থেকে এখানে সপ্তাহে দুইদিন পশুর হাট বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আবার অনেকে এই সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করলেও এদিকে নজর নেই সংশ্লিষ্টদের।’ 

এদিকে অধিগ্রহণের সময় এই তিন ফসলি জমিতে চাষাবাদ করতেন জমির মালিকরা। সেটিও দীর্ঘ সাড়ে তিন যুগ থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন এবং প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে দেশ।  

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, ‘এই জমিতে শুধু আমন ও ইরি-বোরো চাষাবাদ করা হলে দীর্ঘ ৪৩ বছরে এক হাজার ৭৬১ মেট্রিক টন ধান পাওয়া যেতো। যা চাল আকারে হতো এক হাজার ১৭৪ মেট্রিক টন। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। আর ওই জমিতে তিন ফসল চাষাবাদ করা হলে অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তো।’

পৌরসভার মেয়র মাহমুদ আলম লিটন বলেন, ‘জায়গার অভাবে পৌরসভার পক্ষ থেকে শিশু পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র, পশুর হাটসহ অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারছে না। অথচ পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে এত বড় এবং এত মূল্যবান সম্পত্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে কী কারণে তা বোধগম্য নয়। জায়গাটি পরিত্যক্ত ফেলে না রেখে হয় উপশহর গড়ে তুলে আবাসন সমস্যা সমাধান করা হোক, নয়তো বা ফুলবাড়ী পৌরসভাকে দেওয়া হোক।’ 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘দিনাজপুর জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা এ বিষয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। ওই জমিতে মডেল মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে কথা হচ্ছে।’ 

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের বিভাগীয় উপসহকারী প্রকৌশলী মোর্শেদ আলম বলেন, ‘ওই জমিতে উপশহর নির্মাণের কাজ এগোচ্ছে। আগামীতে মডেল মসজিদের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়ে অবশিষ্ট জমিতে প্ল্যানিং কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী উপশহরের জন্য ৭-৮ ক্যাটাগরিতে প্লট নির্মাণ করা হবে। লটারির মাধ্যমে ৫ থেকে ৬ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত প্লটগুলো ব্যক্তি বিশেষকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/মাহি