বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। ফিনল্যান্ড সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গত বুধবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-০২৫) নিয়মিত ফ্লাইটে ৩ জন ককপিট ক্রু ও ১২ জন কেবিন ক্রু ঢাকা ছেড়ে কাতারের উদ্দেশে রওনা দেন। ফ্লাইটটি ওইদিন স্থানীয় সময় রাত ১২টায় দোহা পৌঁছে। এই ফ্লাইটে ছিলেন পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। অন্যদের কাছে পাসপোর্ট থাকলেও ফজল মাহমুদের কাছে তার পাসপোর্ট ছিল না। দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তা ধরা পড়ে।
পাসপোর্ট না থাকায় ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে বিমানবন্দর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বের হতে দেয়নি। কিন্তু বাকি ১৪ জন বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে দোহা নগরীর ক্রাউন প্লাজা হোটেলে চলে যান। ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বিমানবন্দরে থেকে যান। এ সময় ফজল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনকে জানান, তার পাসপোর্ট বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের লকারে রেখে এসেছেন। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এদিকে, পাসপোর্টটি দোহাতে পাঠানোর জন্য ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ ঢাকায় বিমান কর্তৃপক্ষকে ফোনে অনুরোধ জানান। পরে একটি ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ফ্লাইট অপারেশনের অফিস খুলে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার বিমান কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্টটি ঢাকা থেকে দোহাগামী কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে পাঠানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরোয়ার্ডিং ছাড়া কোনো বিদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট বহন করতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ক্রুদের মাধ্যমে সেই পাসপোর্টটি দোহায় পাঠানো হয়। তারা বিমানবন্দরে ফজল মাহমুদের হাতে পাসপোর্টটি পৌঁছে দেন। পাসপোর্টটি হাতে পেয়ে তিনি তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রদর্শন করে ২৪ ঘণ্টা পর বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে শহরে বিমান নির্ধারিত ক্রাউন প্লাজা হোটেলে ওঠেন।
এদিকে, সঙ্গে পাসপোর্ট না নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আনতে কাতার গিয়ে আটক হওয়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগমকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের (রাজনৈতিক-১) যুগ্ম সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (রাজনৈতিক-৪) মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী। জানা গেছে, এই ঘটনার পর ফজল মাহমুদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি দোহা থেকে ঢাকায় নিয়ে আসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলামকে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বিমানের দোহাগামী নিয়মিত ফ্লাইটে (বিজি-০২৫) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টোকিও সফর করেন। সেখান থেকে তিন দিনের সফরে সৌদি আরব যান। ৩ জুন সৌদি আরব থেকে ফিনল্যান্ড সফরে যান তিনি। ফিনল্যান্ড থেকে রওনা হয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন তিনি। এরপর দোহা থেকে বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইট ড্রিমলাইনারে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা আসবেন প্রধানমন্ত্রী।
