সিলেটর জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের পূর্বসাতজনি গ্রামে টিলা ধসে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ৮ জন। সোমবার (৬ জুন) ভোর ৫টায় জৈন্তাপুর উপজেলা চিকনাগুল ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্বসাতজনি গ্রামে টিলা ধসের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পূর্বসাতজনি গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে জুবায়ের আহমদ (৩৫), তার স্ত্রী মোছা. সুমি বেগম (৩০), জুবায়ের আহমদের ছেলে সাফি আহমদ (৫) এবং জুবায়ের আহমদের ভাই মাওলানা রফিক আহমদের স্ত্রী মোছা. শামীমা বেগম (৪৮)। আহতরা হলেন আব্দুল করিম (৮০), খয়রুন নেছা (৭৫), মাওলানা রফিক আহমদ (৬০), ফাইজা বেগম (২০), লুৎফা বেগম (২০), রাফিউল ইসলাম (১০), মেহেরুন নেছা (৪০) এবং হাম্মাদ (৩)। ঘটনার পরপর এলাকাবাসী মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দ্রুত ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।
অপর দিকে ঘটনার সংবাদ পেয়ে সিলেট ফায়ার সার্ভিস উপ-পরিচালক মনিরুজামানের নেতৃত্বে জালালাবাদ ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সদস্য ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশের টিম ও গ্রামবাসী ৫ জনকে আহত এবং ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। আহতদের সিলেট শহরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পূর্বসাতজনি গ্রামে আরও ১০/১২টি পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করে আসছে। এদিকে গত দুই দিনে একই এলাকায় দুটি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে, তবে কোন হতাহত হয়নি বলে জানা যায়।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস‘র একটি ইউনিট ও জালালাবাদ সেনানিবাস ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও জৈন্তাপুর থানা পুলিশের একটি টিম এলাকাবাসীর সাথে উদ্ধার কাজ করে।
সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে দ্রুত দুটি ইউনিট নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করি।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম দস্তগির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ৫ জনকে আহত এবং ৪ জনকে মৃত অবস্থার উদ্ধার করি। মৃতদের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ক্রমে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
