চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি

ঈদের জামাত হলো তিন দিন

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৯, ২২:৫০

শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। ফলে মাসলা-মাসায়েলের যুক্তিতর্কের বিতর্কে এবছর দেশের নানা প্রান্তে টানা তিন দিন ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সারাদেশে বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনা, ধর্মীয় গাম্ভীর্য ও আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেন মুসলমানরা। তবে তার আগের দিন সোমবার ও ঈদের পরের দিন বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ জামাত। সাধারণত: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি বছরের মতো বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, লক্ষ্মীপুর, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ ১১ জেলার অনেক অঞ্চলের মানুষ মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করেন। আর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল     মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর জানানো হয়েছিল দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। তাই বুধবার নয়, বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপন করা হবে। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত সোয়া ১১টায় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নতুন করে ঘোষণা দেন, “শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে। বুধবারই ঈদ হবে।”

ততক্ষণে সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দেশের অধিকাংশ মানুষ তারাবি নামাজ পড়ে এবং বুধবার রোজা রাখার প্রস্তুতি নেয়। তবে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই দেশজুড়ে বুধবার মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ পালিত হয়েছে। দেশের প্রায় সকল জায়গায় দিনভর বৃষ্টি ঈদ আয়োজনে বিঘ্ন ঘটালেও ঈদ আনন্দে ভাটা পড়েনি।

তবে চাঁদ দেখা কমিটির এই সিদ্ধান্ত মানেননি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ২০টি এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার পাঁচটি গ্রামসহ কয়েকটি জেলা উপজেলার মানুষ। তারা বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় গৌরনদী উপজেলার বাঙ্গিলা হামিউস সুন্নাহ কওমি মাদরাসা প্রাঙ্গণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদ জামাতে ২০টি গ্রামের শত শত মানুষ অংশ নেন। মাওলানা মুফতি মো. হাবিবুল্লাহ ঈদের জামাতের ইমামতি করেন। মুফতি মো. হাবিবুল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, হাদিসে বর্ণিত আছে চাঁদ দেখে রোজা রাখা ও চাঁদ দেখে ঈদ করতে হবে। কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির প্রথম ঘোষণা কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে সঠিক ছিল। পরবর্তীতে রাত ১১টায় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা কোরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে সঠিক হয়নি।

এদিকে চাঁদ দেখার বিভ্রান্তি ব্যাখ্যায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহ বলেন, মঙ্গলবার রাত নয়টা পর্যন্ত আমরা বৈঠকে ছিলাম। সকল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু তখন পর্যন্ত দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেছে এরকম খবর পাওয়া যায়নি। এ কারণেই বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টার পর কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শতাধিক ব্যক্তি চাঁদ দেখেছেন বলে খবর আসে। সেটা সঠিক কি না তা যাচাইয়ের জন্য কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা আবার বৈঠক করে সিদ্ধান্ত বদল করেন।