চলতি বোরো মৌসুমে প্রথমবারের মতো সীমিত পরিসরে চাষ হয় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্রি ধান- ১০০। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু ধান’।
ধানের আকার ছোট যা নাজিরশাইল, জিরাশাইল, দাতখানি বা কাটারির মতো। হালকা লালচে রংয়ের এ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। একর প্রতি ৩৬-৪০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া গেছে। ধানের দানা পুষ্ট এবং আকার কিছুটা গোলাকার। ইতিমধ্যে ধান কাটা ও মাড়াই শেষে তা অনেকে আগ্রহভরে চাল বানিয়ে ভাত রান্না করে খেয়েছেন। এ ধানের চাল বাজার মাতাবে। ঝরঝরে ভাত ঠিক কাটারিভোগের চালের মতো ছোট ও চিকন। এ চালে কেবল ঘ্রাণ নেই। তাছাড়া সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বিশেষ করে জিঙ্কের উপস্থিতি প্রচলিত সব জাতের ধানের চেয়ে বেশি। অ্যাইমাইলোজের পরিমাণও বেশি। ভাত সুস্বাদু। আতপ ও সিদ্ধ উভয় চালই আকর্ষণীয় আকারের। তবে যেহেতু চাষ হয়েছে সীমিত জমিতে, তাই এ চাল এ বছরই বাজারে আসছে না। বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসতে আরও ৩-৪ বছর সময় লাগবে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় এক বিঘা জমিতে এ ধান চাষ করান সৌখিন চাষি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এস এম আতিয়ার রহমান। ব্রি ধান ১০০ বঙ্গবন্ধু ধান চাষ সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন উদ্ভাবিত এ ধান সম্পর্কে জেনে তিনি ব্রির সদর দপ্তর গাজীপুরে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে বীজের ব্যাপারে ব্রির গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিলে তিনি সেখানকার প্রধান ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে ৫ কেজি বীজ সংগ্রহ করেন। ওই বীজ দিয়েই ডুমুরিয়ার কার্তিকডাঙ্গা বিলে এক বিঘা জমিতে এ ধানের চারা লাগানোর ব্যবস্থা নেন। এপ্রিল মাসের শেষে ধান কাটা হয়। ধান ভাঙিয়ে যে চাল পান তাতে তিনি অবাক। শতকরা ৯৫ শতাংশের বেশি চাল অভাঙা রয়েছে, যা সাধারণত ধান কেটে শুকিয়ে এতো তাড়াতাড়ি এ রকম ভালো চাল পাওয়া যায় না।
আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রধান ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এবার তিনি এক হাজার কেজি বীজ কৃষকদের মধ্যে দেন। তার মধ্যে অল্পকিছু নড়াইল ও বাগেরহাট এলাকাতেও গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়। তার প্রদত্ত বীজে ৫০০ একরেরও বেশি জায়গায় এ ধান চাষ হয়েছে। গোপালগঞ্জের চাষিরা সাধারণত মোটা ধান চাষ ও মোটা চাল খেতে অভ্যস্ত। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ধানের চাষ করে তারা খুশি। কারণ, এ ধানের উৎপাদনও ভালো এবং রোগবালাই কম হয়েছে। বাজারে দু-চারজন ধান বিক্রি করলেও তার দাম পেয়েছেন প্রচলিত ২৮ জাতের চেয়ে বেশি। ফলে এ ধান আগামী মৌসুমে ব্যাপক চাষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ধানের উচ্চতা ১০১ সেন্টিমিটার। প্রতিকেজি চালে জিঙ্কের পরিমাণ ২৫.৭ মিলিগ্রাম। অ্যামাইলোজ ২৬ দশমিক ৮ভাগ ও প্রোটিন ৭ দশমিক ৮ ভাগ।

জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে আম বেচাকেনা