আর মাত্র ছয় দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন। ভোটের মাঠে হেভিওয়েট তিন মেয়র পদপ্রার্থীর জন্য গত দুটি নির্বাচনের চাইতে নানা কারণে অনেকটা চ্যালেঞ্জের হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, এবার এখানে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীকে গত দুটি নির্বাচনে দলটির স্থানীয় গ্রুপিংয়ের জেরে একাংশের অনুকম্পায় নির্বাচিত দুই বারের মেয়রের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এছাড়া এই নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের এখনো নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় নেতা-নেতৃত্বে দল-উপদলে বিভক্তির বৈরী খবর হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে।
অন্যদিকে নৌকার প্রার্থীর জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী সদ্য সাবেক মেয়র ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু। অবশ্য তিনিও অনেকটা বেকায়দায় আছেন স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিষ্কৃত অপর স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারের প্রার্থিতায়। তিনি (কায়সার) কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি আমিন-উর রশিদ ইয়াছিনের শ্যালক এবং ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তার পক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কৃত এই দুই প্রার্থীর ভোটের মাঠে নেতা-নেতৃত্বে চলছে টানাপোড়েন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার এখানে ভোটের দিন যতটা ঘনিয়ে আসছে, ততই মাঠের চিত্র বদলাচ্ছে এবং রিফাত-সাক্কু-কায়সারের ভোটের সমীকরণে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা স্পষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রমতে, আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের পক্ষে এ নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী অপর ১৩ নেতা ও তাদের অনুসারীরা এখনো গণসংযোগে মাঠে নেই। এছাড়া প্রচার-প্রচারণায় নেই আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আফজল খানের পরিবারের সদস্যরাও। আওয়ামী লীগের ৪১ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতেও তাদের নাম নেই। এতে আওয়ামী ঘরানার ভোটারদের কাছে নৌকার প্রার্থীর ভোটের মাঠের এককাট্টা অবস্থান বলা যাচ্ছে না।
নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত সাংবাদিকদের বলেন, এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগ এবং নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে এককাট্টা রয়েছেন। সংরক্ষিত আসনের এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমাও নৌকার পক্ষে আছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ পরিস্থিতি মোকাবিলার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ নিয়েই রাজনীতি করে। এখানে এবার নৌকার জয় সুনিশ্চিত। এদিকে বিএনপি ঘরানার স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র ও টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কুর বিরুদ্ধে নৌকার প্রার্থী নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন। দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, তিনি (সাক্কু) সিটির টানা দুই মেয়াদে মেয়র থাকাকালে সরকারি দলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেছেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের উপেক্ষা করেছেন। তিনি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সরব-নীরব সমর্থন নিয়ে প্রচারণার মাঠে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে নগরবাসী ‘দুর্নীতিবাজদের’ বয়কট করবে।
