কুসিক নির্বাচন: প্রার্থীদের কাছে কদর বেড়েছে ভোটারদের

আপডেট : ০৯ জুন ২০২২, ০২:৫২

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। প্রার্থীরা জয় পেতে মরিয়া হয়ে ছুটছেন ৫৩ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের নগরীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে, দিন-রাত দৌড়ঝাঁপ করছেন, নির্ঘুম ঘুরছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। ঘর্মাক্ত দেহের কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী মানুষজন ছাড়াও নানা পেশার ভোটারের সঙ্গেও চিরচেনা আত্মীয়ের মতো সহাস্যে কোলাকোলি ও করমর্দন করছেন প্রার্থীরা। 

নির্বাচন উপলক্ষ্যে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের কাছে ভোটারদের কদর অনেক বেড়ে গেছে। তবে কে জিতবেন, কে হারবেন—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এদিকে ‘নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে’ বলে গত ২৯ মে কুমিল্লায় প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে গেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এমন ঘোষণায় ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উত্সাহ উদ্দীপনা যোগ করেছে। নির্বাচনের মাঠে চলছে তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণার ডামাডোল। এছাড়া নগরীর শপিং মল, দোকানপাট ও নগরীর অলিগলি সড়কে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন। বলা যায়, পোস্টারে-ব্যানারে ছেয়ে আছে পুরো নগরী। নগর এলাকা ঘুরে সর্বত্র নির্বাচনি উৎসবের এমন-ই নান্দনিক চিত্র দেখা গেছে। তবে বিশেষ করে মেয়র পদে প্রার্থীদের গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকে একে অপরকে টার্গেট করে দেওয়া বক্তব্যে ভোটের মাঠে উত্তাপও ছড়াচ্ছে। তাদের কর্মী-সমর্থকরাও এসব পালটাপালটি মন্তব্য ছড়াচ্ছেন নগরীর আনাচে-কানাচে। এতে ভোটের দিনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কায় আছেন প্রার্থীদের কাছে কদর পাওয়া ভোটাররা।

এ বছর কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ ভোট। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ এবং মহিলা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ ভোট। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লা পৌরসভা ও ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সদর দক্ষিণ পৌরসভা একীভূত করে ২০১১ সালের ১০ জুলাই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। আগামী ১৫ জুন তৃতীয় বারের মতো এ সিটির নির্বাচন হবে। এর আগে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথম ও ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ দ্বিতীয় নির্বাচন হয়েছিল। দুটি নির্বাচনে মেয়র হন বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত গতকাল বুধবার নগরীর কাশারিপট্টি, নূরপুর, সংরাইশ, শুভপুর, ঠাকুরপাড়া, মহেশপুর, ফুনকা ব্রিজ, উলুরচরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করেন। এ সময় তিনি ভোটারদের কাছে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন এবং নগরীর সকল ওয়ার্ডের উন্নয়ন সমতা বজায় রেখে নানান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ আছে দাবি করে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে আসা নেতৃবৃন্দসহ দলের স্হানীয় পর্যায়ের সকল নেতাকর্মী নৌকার প্রশ্নে ভেদাভেদ ভুলে মাঠে কাজ করছেন। আশা করি ১৫ জুনের বিজয় নৌকার-ই হবে। বিএনপি দলীয় মেয়র গত ১০ বছরে এ সিটিকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়নি। তিনি নির্বাচত হলে এক বছরের মধ্যে নগরীর যানজট ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বুধবার নগরীর মগবাড়ী, কালিয়াজুড়ি, ছোটরা, রেইসকোর্সসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড এলাকায় পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করেন। এ সময় তিনি বলেন, গত দুই মেয়াদে আমি এ সিটির মেয়র ছিলাম। সরকারের সহায়তায় স্হানীয় এমপির সঙ্গে মিলেমিশে নগরীর উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। গত ২৫ মে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ কুমিল্লায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন, ১০ বছর আগে কুমিল্লায় এসেছিলাম, তখন যা দেখেছি এখন সম্পূর্ণ ভিন্নচিত্র।

ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বুধবার নগরীর আদালতপাড়া, ভাটপাড়া, বিষ্ণুপুর, ছোটরা, থিরাপুকুরপাড়, সালমানপুর এলাকায় পথসভা, গণসংযোগ, উঠান বৈঠকে সাংবাদিক ও ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এখানে এখনো নির্বাচনের পরিবেশ ভালো দেখছি, কিন্তু স্থানীয় এমপি প্রভাব খাটিয়ে ভোটের পরিবেশ বিনষ্ট করার চেষ্টা করছেন। আলাদাভাবে বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে বসে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন। একজন প্রার্থী (সাক্কু) এমপির বিরুদ্ধে ইসিতে অভিযোগও করেছেন।

এমপি বাহারকে সিটি এলাকা ছাড়ার চিঠি

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত ঐ চিঠিখানা এমপি বাহাউদ্দিনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রাত সাড়ে ৭টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী। তিনি জানান, চিঠিটি ই-মেইলে তার কার্যালয়ে পৌঁছার পর তা এমপি মহোদয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/ ইআ