না’গঞ্জে উত্সবমুখর পরিবেশে ৬১ জনের মনোনয়নপত্র জমা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

উত্সবমুখর পরিবেশে গত বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের ৬১ জন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের মধ্যে সাবেক ৫ এমপিই এবার মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টের প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা যেমন রয়েছেন, তেমনই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টাও রয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ আতাউর রহমান জানান, ৫টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ৬১জন। যার মধ্যে রূপগঞ্জ আসনে ১০জন, আড়াইহাজার আসনে ৮জন, সোনারগাঁ আসনে ১৫ জন, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসনে ১৬ জন ও শহর ও বন্দর আসনে ১২ জন।

গতকাল বুধবার শেষ দিনে উত্সবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪০ জন প্রার্থী। এর আগে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। রূপগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির, জাতীয় পার্টি দলীয় প্রার্থী আজম খান, জাকের পার্টির মাহফুজুর রহমানসহ ৪ জন। আড়াইহাজার আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপিরসহ আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, সিপিবির হাফিজুল ইসলাম, জাকের পার্টির মুরাদ হোসেন জামাল, স্বতন্ত্র আবু হানিফ হূদয়সহ ৬ জন। সোনারগাঁ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আজাহারুল ইসলাম মান্নান, জাকের পার্টির মোস্তফা আমির ফয়সাল, জাকের পার্টির মুরাদ হোসেন জামাল, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের এএনএম ফখরুদ্দিন, কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস সোহেল মোল্লাসহ ৮ জন। ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহআলম ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগের নেতা কাউসার আহাম্মেদ পলাশ, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালাউদ্দিন খোকা মোল্লা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, বাসদের সেলিম মাহমুদ, সিপিবির ইকবাল হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতালীগের শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, স্বতন্ত্র প্রার্থী দলীয় সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের পুত্র জিএম কায়সারসহ ১৬ জন। সদর ও বন্দর আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক এমপি এস এম আকরাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, সিপিবির অ্যাডভোকেট মন্টুঘোষ, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব, ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী, জাকের পার্টির মোর্শেদ হাসান জামালসহ ১৩ জন।

এ দিকে, শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমাদানকালে ছিল আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক। প্রতিজন প্রার্থীর সঙ্গে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীসহ ৭ জন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করার কথা থাকলেও প্রার্থীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিল অসংখ্য নেতাকর্মী। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়া বলেন, একইসঙ্গে একাধিক প্রার্থী ভেতরে প্রবেশ করায় কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২ ডিসেম্বর প্রার্থী বাছাই হবে।