বরিশাল-ভোলার সীমান্তবর্তী মহিষমারী গ্রামে গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুন) দুপুরে দুই গ্রামবাসী ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণে আট নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বরিশাল-ভোলা যৌথ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ২৮ রাউন্ড গুলি ছুড়লে কয়েক জন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে নারীসহ ১২ জনকে বিকাল ৫টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভোলা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফরহাদ সরদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফরহাদ হোসেন জানান, সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে বরিশাল-ভোলার সীমান্তবর্তী মহিষমারী গ্রামের একটি চরের অস্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে ভোলার চরচটকিমারা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে বিবাদ চলে আসছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সেখানে যায়। এসময় গ্রামবাসী অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে থানার ওসিসহ অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে যান এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয়দের সহায়তায় সন্ধ্যায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়।
ভোলা সদর থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, শ্রীপুর এবং ভেদুরিয়ার মধ্যবর্তীর একটি ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজের দুই প্রান্তের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। কিন্তু বিরোধপূর্ণ জমিতে বালু ভরাট করে ঘর নির্মাণ করছিলেন শ্রীপুরের রুবেল কাজী। এতে বাধা দেয় ভেদুরিয়ার বাসিন্দারা। তিনি আরো বলেন, গতকালের ঘটনার সময় রুবেল কাজী স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ নিয়ে বিরোধপূর্ণ জমি দখল করতে যাচ্ছিলেন। এসময় সীমান্তে দায়িত্বে থাকা বরিশাল এবং ভোলা জেলা পুলিশের সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এতে তারা অস্ত্রসহ পুলিশের ওপর হামলা চালালে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগান থেকে ২৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। তবে এতে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। সংঘর্ষে পুলিশের কয়েক জন সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রীপুর ইউনিয়নের চৌকিদার মাহেব হোসেনও একই কথা বলেন।
এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক কবির উদ্দিন বলেন, গতকাল বিকাল ৫টার দিকে ১২ জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। শের-ই-বাংলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ আহতরা জানান, নদী ভাঙনে তাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। বরিশাল-ভোলা সীমান্তবর্তীর মহিষমারী গ্রামে চরের মধ্যে প্রায় ২০০ ঘর রয়েছে। শ্রীপুরের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রুবেল ও বর্তমান চেয়ারম্যান হারুন মোল্লার দ্বন্দ্বের জেরে এ সংঘর্ষ ঘটেছে।
