দেশে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক খাদ্যপণ্যেরও দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের দাম। বিশেষত রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর খাবারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। আর এই অভিযোগ স্বীকার করে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকরা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায়, খাবারের দাম বাড়াতে তারা বাধ্য হয়েছেন। খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ কমাতে ভালো মানের হোটেল ছেড়ে ফুটপাতের খাবারের দোকানের দিকে ছুটছেন ভোক্তারা। আর যারা খাচ্ছেন, তারাও ভাজি-ভর্তাসহ কম দামের খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে ছিন্নমূল বেশিরভাগ মানুষ ফুটপাতের খাবার খাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিত্যপন্যের দাম বাঁড়ায় খাবারের বিক্রি কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। খুব কম মানুষই রেস্তোরাঁয় খেতে আসছেন। বেশিরভাগ মানুষই ঝুঁকছেন ফুটপাতের হোটেলে। তবে যারা রেস্তোরাঁয় আসছেন তারাও কম দামের তরকারি খাচ্ছেন।
রাজধানীর সদরঘাট, ঢাকা মেডিক্যাল, আজিমপুর, আগারগাঁও এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতের অনেক স্থানে খাবারের দোকান রয়েছে। আবার অনেকে ঘুরে ঘুরে খাবার বিক্রি করছেন। এ সব দোকানে মানুষ ভিড় করে খাবার খাচ্ছেন। যারা খাবার খাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ।
ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ভাত, ভর্তা, ডাল, ডিম ও সবজির আইটেম থাকে। এখানে ৩০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ভরপেট খাবার খাওয়া যায়। কিন্তু হোটেলে খাবার খেতে গেলে কমপক্ষে ১০০ টাকা লাগে। এ কারণে ফুটপাতের খাবারের দোকানে মানুষের ভিড় বেশি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে সব হোটেল, রেস্তোরায় খাবারের দাম বেড়েছে। ফলে রেস্তোরাঁগুলোতে আগের চেয়ে মানুষের ভিড় কম। আগে যেখানে রেস্তোরাঁগুলোতে ২০ থেকে ২৫ রকমের আইটেম রাখা হতো, এখন সেখানে ৮ থেকে ১০ রকমের আইটেম রাখা হচ্ছে। দামও প্রতিটি আইটেমে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকার আরামবাগ হোটেলের মালিক মহিউদ্দিন জানান, আগে রুই মাছ টাকা ১৩০ টাকা, পাবদা ১২০ টাকা, শিং মাছ ১২০, তেলাপিয়া ৯০ টাকা, কৈ মাছ ৯০ টাকা, পাঙাশ ৬০ টাকা, মুরগি ৬০ টাকা, ঝাল ফ্রাই ১০০ টাকা, খাসি ১৫০ টাকা রাখা হতো। কিন্তু দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির ফলে সব আইটেমে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে। শাক-সবজি, ভর্তার দামও ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে হয়েছে। আগে ফ্রিতে ডাল দেওয়া হলেও এখন ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আগের চেয়ে বিক্রি অনেক কমে গেছে। আগে আমরা ২০ থেকে ২৫ রকমের আইটেম রাখতাম। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন ৮ থেকে ১০ রকমের আইটেম রাখি। তাও মানুষ আসে না। যারা আসে ডাল-ভাত খায়। মাছ-মাংসের বিক্রি নেই বললেই চলে।
সদরঘাট এলাকায় ফুটপাতের দোকানে ভাত খাচ্ছিলেন সিকিউরিটি গার্ড হানিফ মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের যেই আয়, তা দিয়ে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। প্রতিমাসে বাড়িতে টাকা পাঠাতে হয়। নিজেরও খরচ আছে। জিনিসপাতির দাম যেভাবে বেড়েছে, হোটেলে খাওয়ার মত অবস্থা আমাদের নেই।
কলতাবাজারের রাজমহল হোটেলে খাবার খেতে এসেছেন অ্যাডভোকেট তাপস বিশ্বাস। তিনি জানান, হোটেলে সব খাবারের দামই বাড়তি। মাছ, মাংস খাওয়ার অবস্থা নেই। কোনো রকম সবজি-ভর্তা, ডাল দিয়ে পেট ভরাতে পারলেই হলো। তাও ১০০ টাকার বেশি বিল চলে আসে। আমাদের কথা কেউ ভাবে না। মধ্যবিত্তদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মো. ওসমান গনি ইত্তেফাককে বলেন, আমরা ভালো নেই। আটা-ময়দা, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আমাদের খাবারের দাম বাড়াতে হয়েছে। দাম বাড়ানোয় ভোক্তারাও অসন্তুষ্ট। নিত্যপণ্যের দাম কমাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। না হয় আমাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।
