বিএম কনটেইনার ডিপোতে ৩৭টি কনটেইনার হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানির জন্য রাখা হয়েছিল। ইতিপূর্বে কখনো ২০, কখনো ২৬, কখনো ৩৩ কনটেইনার হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ডিপোতে রাখা হয়েছিল বলে মালিক পক্ষের বিভিন্ন তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু গতকাল শনিবার (১১ জুন) সরেজমিন তদন্ত ও সার্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সূত্র জানায়, আটটি বিল অব এক্সপোর্টের অধীনে ৩৭ কনটেইনার হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ডিপোতে মজুত রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে ১২টি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড-বাহী অবিস্ফোরিত ও পাঁচটি খালি কনটেইনার রয়েছে।
ইতিপূর্বে ঐ ডিপোর দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা জানিয়েছিলেন, হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ডিপোতে আনা হলেও তাদের কাছে রপ্তানি বিল জমা দেওয়া হয়নি। তিনি জানিয়েছিলেন, ১ ও ২ জুন হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড ডিপোতে এনে কনটেইনারে মজুত রাখা হয়। তাছাড়া ডিপোর মালিক এবং হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক একই প্রতিষ্ঠান।
স্মার্ট গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের শহর-সংলগ্ন ডান্ডাছড়ি এলাকায় আলরাজি কেমিক্যাল প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াজাত শেষে গত এক বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি করে আসছে। জানা যায়, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম সহ ১৪টি দেশে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে। এক সময় হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। সে সময় অনেক বেশি মূল্যে দেশের টেক্সটাইল সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড আমদানি করত। বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি টন ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে।
জানা যায়, স্মার্ট গ্রুপ তথা আলরাজি কেমিক্যাল থেকে ঐ ৩৭ কনটেইনার ভিয়েতনাম ও করাচিতে রপ্তানির জন্য বিএম ডিপোতে রাখা হয়েছে। জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে ছয়টি কোম্পানি হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড রপ্তানি করে থাকে। ঐ পণ্য জাহাজীকরণের আগে চট্টগ্রামে অবস্থিত ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপোর বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট ডিপোতে এনে কনটেইনারে ভর্তি করা হয়।
বিএম ডিপোতে গত শনিবার বিস্ফোরণের সময় সম্মুখভাগে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড এবং তার লাগোয়া গার্মেন্টস পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়। একই সঙ্গে দেখা যায়, শুধু হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড-বাহী কনটেইনার বিস্ফোরণ হয়েছে। গার্মেন্টস পণ্যবাহী কনটেইনারের ভেতর পণ্যসমূহে আগুন লেগেছে। কিন্তু বিস্ফোরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

