বর্ষার শুরুতেই মুরাদনগর উপজেলায় শত বছরের পুরোনো রামচন্দ্রপুর ও ডুমুরিয়া বাজারে এখন নৌকা বিক্রির ধুম পড়েছে। বর্ষাকালে নদীতে পাল তোলা নৌকা চোখে কম পড়লেও ডিঙি নৌকা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছে। নৌকার হাটের জন্য বড় বাজার হিসেবে রামচন্দ্রপুর বাজার বেশ প্রসিদ্ধ। গত বছরের তুলনায় কাঠের দাম বেশি হওয়ায় এবার নৌকার মূল্য একটু বেশি। তা হলেও জমে উঠেছে নৌকা বিক্রি।
মুরাদনগরসহ পার্শ্ববর্তী হোমনা, মেঘনা, দাউদকান্দি, তিতাস, বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই ডিঙি নৌকা। কৃষকদের গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটা, বর্ষা মৌসুমে চলাচল, জীবন জীবিকা ও দৈনন্দিন নানা রকম কাজকর্মে এই নৌকার ব্যবহার হয়ে থাকে। বর্ষায় এই ডিঙি নৌকায় পণ্যদ্রব্য সাজিয়ে ফেরিওয়ালারা তাদের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বেড়ায়। মুরাদনগরসহ পার্শ্ববর্তী ছয় উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠী জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে মাছ শিকার ও যাতায়াতের জন্য এ ডিঙি নৌকার ওপর নির্ভরশীল থাকেন।
বর্ষা মৌসুমে কাঠ মিস্ত্রিদের তেমন কাজ না থাকায় মুরাদনগর উপজেলার কৈজুরী, পাঁচকিত্তা ও তিতাস উপজেলার মেলামচর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে কোষা নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। ক্রেতা সাধারণ এবার ডিঙি নৌকার দাম চড়া বলে বিপাকে পড়েছেন। অনেকটা নিরুপায় হয়েই ক্রেতা সাধারণ এবার চড়া দামে স্থানীয় বাজার থেকে এই নৌকা কিনে নিচ্ছেন।
