জীবনেরই চিত্র এটি। একটা বিষয় বারবার ঘটতে থাকলে অজান্তেই মনের মধ্যে সেটি নিয়ে ভয় তৈরি হয়ে যায়।
বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিশীল পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাঁচ বছরের ক্যারিয়ারে বার বারই চোটে পড়েছেন তিনি। যার কারণে তার সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার ডানা মেলতে পারছে না।
জাতীয় দলে স্হায়ী হতে পারছেন না সাইফউদ্দিন। গত পাঁচ বছরে ওয়ানডে ও টি-২০ তে ২৯টি করে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। গত বছর টি-২০ বিশ্বকাপের মাঝপথে পিঠের ইনজুরি নিয়ে দেশে ফিরেছেন। লম্বা রিহ্যাব, অনুশীলনেও সুস্হ হতে পারেননি পুরোপুরি। যা সাইফউদ্দিনের মনোজগতে প্রভাব ফেলেছে। তার আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিয়েছে, নিজের সামর্থ্য নিয়েই সংশয়ে পড়ে গিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী এ অলরাউন্ডার।
পরে বিসিবির ব্যবস্হাপনায় লন্ডনে গিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছেন। স্ক্যানে যখন কিছু ধরা পড়েনি, তখনই যেন মনের মধ্যে বিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন সাইফউদ্দিন। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে টানা খেলেছেন এবং অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।
ইনজুরির ধাক্কা ও বাস্তবতা মিলে নিজেকে কিছুটা দুর্ভাগা মনে করেন সাইফউদ্দিন। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষের জীবন আলাদা, যারা অনেক ভাগ্যবান, দীর্ঘ সময় খেলে যেতে পারে ইনজুরি ছাড়া, দল থেকে খুব কম বের হয়। অধিকাংশ পেস বোলারেরই অন অ্যান্ড অফ থাকে। তো এটা জীবনেরই অংশ।’
তরুণ এ অলরাউন্ডার আরও বলেন, ‘জানি না আবার কতদিন খেলতে পারব। পারফরম্যান্স বা ইনজুরির একটা বিষয় আছে। চেষ্টা তো করছি, তবে কী হবে, না হবে সেটা কারও হাতে নেই। কিছুটা ব্যাডলাক। হয়তো-বা আর পাঁচটা পেস বোলারের চেয়ে আমিই কিছুটা আনলাকি। তবে এটা জীবনের অংশ। এটা মেনে নিয়েই চলছি।’
সেরে না উঠায় ইনজুরি ভয়ে মনের ভেতর কুঁকড়ে গিয়েছিলেন সাইফউদ্দিন। লন্ডনে গিয়ে দূর হয়েছে সংশয়। তিনি বলেছেন, ‘এতদিন কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম যে আমার ভেতর কিছু আছে কি না। বিসিবির অধীনে ইংল্যান্ডে গিয়ে স্ক্যান দেখে দেখা যায় আমার কিছু হয়নি। তাই কিছুটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বোলিং করছি এখন। সামনে বিশ্বকাপ আছে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সুস্হ থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমার জন্য।’
ক্যারিবিয়ান সফরের ওয়ানডে ও টি-২০ দলে আছেন সাইফউদ্দিন। আপাতত ফিটনেসের কাজই করছেন তিনি। মাঝে রাজশাহী গিয়ে ম্যাচ খেলেছেন প্রস্ত্ততির স্বার্থে। এ পেস বোলিং অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘অনুশীলন, রিহ্যাব, জিম করছি, এতদিন যেভাবে করে এসেছি। একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। হয়তো স্কিলটা ওভাবে শুরু করিনি। ১৫ তারিখের পর থেকে শুরু করব।’ আগামী ২২ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা ওয়ানডে ও টি-২০ দলের ক্রিকেটারদের।
