হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাককে বলা হয় নীরব ঘাতক। প্রতিবছর বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ মারা যায়, তার ৩১ শতাংশের কারণ হচ্ছে হৃদরোগ। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, শরীরচর্চা না করার অভ্যাসে হৃদরোগজনিত সমস্যা দেখা দেয়। শরীরচর্চার অভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে অবশ্যই শরীরচর্চা করতে হবে। এক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন ৩টি যোগাসন।
ভুজঙ্গাসন: এই আসনটি করতে প্রথমে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার হাতের তালু মেঝের ওপর ভর দিয়ে পাঁজরের দুই পাশে রাখুন। এরপর কোমর থেকে পা পর্যন্ত মাটিতে রেখে হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে বাকি শরীরটা ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তুলতে হবে। তারপর মাথা বেঁকিয়ে উপরের দিকে তাকাবেন। এই ভঙ্গিতে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড থাকার পর আগের অবস্থায় ফিরে যাবেন।
পদহস্তাসন: এই আসনটি করতে প্রথমে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। তারপর ধীরে ধীরে পা দুটা সামান্য ফাঁক করতে হবে। এবার ভালো করে শ্বাস নিতে নিতে হাত দুটা ওপরের দিকে তুলবেন। এরপর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন। হাতের সাহায্যে গোড়ালি স্পর্শ করুন। এ সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন হাঁটু যেন না ভাঙে। এভাবে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকার পর আগের অবস্থায় ফিরে আসবেন।
ধনুরাসন: পেট উপুড় করে শুয়ে পড়ুন। তারপর হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা যতটা সম্ভব পিঠের ওপর নিয়ে আসুন। এবার হাত দুটা পেছনে নিয়ে গোড়ালির উপর শক্ত করে চেপে ধরুন। চেষ্টা করে পা দুটা মাথার কাছাকাছি নিয়ে আসুন। পেট মেঝে স্পর্শ করিয়ে ওপরের দিকে তাকাবেন। এই ভঙ্গিতে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড থাকার পর আগের ভঙ্গিতে ফিরে যাবেন।
যোগাসনের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো হৃৎপিণ্ডকে চাপমুক্ত রাখে। ফলে শরীর ও মন সতেজ থাকে। মানসিক অবসাদ কর্টিসল ও অ্যাড্রেনারিন হরমোন নিঃসরণকে প্রভাবিত করে আমাদের শিরাকে সংকুচিত করে রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। কর্টিসল শরীরের ওজন হ্রাসে বাধা সৃষ্টি করে, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ বাড়ায়। এর থেকেই হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোক হয়।
