মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে র্যাব পরিচয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা অপহরণকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার ও অপহরণকৃত ব্যাক্তিকে উদ্ধার করেছে র্যাব ৪। সোমবার (১৩ জুন) বিকেলে র্যাব ৪ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
উদ্ধার হওয়া অপহরণকৃত ব্যাক্তি উপজেলার সাফুল্লী গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মো. রানা আহমেদ (১৯)।
অপহরণকারীরা হলো, চাঁদপুরের শাহ মো. দোজাহান (২২), রাজশাহীর মো. আশিকুর রহমান (২৯), ঢাকার মো. মিঠুন (১৮), মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার সাফুল্লী গ্রামের মো. শরিফুল ইসলাম (৩২), মো. হাবিবুর রহমান (২৭)
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার দিকে সাটুরিয়ার সাফুল্লী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ফুটবল খেলা শেষে বাড়ী ফেরার পথে ভিক-টিম মো. রানা আহমেদকে রাবের জ্যাকেট ও রাবের লোগো সম্বলিত মাস্ক পরিহিত অবস্থায় কতিপয় ব্যক্তি র্যাব পরিচয় দিয়ে পথরোধ করে মাথায় পিস্তল ঠেকায় এবং পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে তাকে মাদক পাচারকারী হিসেবে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাতে অপহরণকারী দলের এক সদস্য ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে তার পিতার কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলে হুমকি দেয়।
ভিকটিমের বাবা মুক্তিপণের টাকা কমানোর জন্য বার বার অনুরোধ করে ৫ লক্ষ টাকা দেবার সিদ্ধান্ত হয়। মুক্তিপণের দাবীকৃত ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর বাবাকে মিরপুর ১ গোল চত্বর এলাকায় আসতে বলে। এ ঘটনায় অপহৃতের বাবা র্যাব ৪ এ লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করে যে, দ্বাদশ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত তার ছেলে মো. রানা আহমেদ (১৯) কে র্যাব পরিচয়ে কিছু লোক একটি সাদা মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ভিকটিমের পিতার নিকট ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
পরে র্যাবের আভিযানিক দলের পরিকল্পনায় ও তত্ত্বাবধানে ভিকটিমের বাবা কাছে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে অপহরণকারীর এক সদস্য উপস্থিত হলে রাবের আভিযানিক দল কর্তৃক গ্রেফতার করা হয় এবং উক্ত অপহরনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদে পল্লবী থানাধীন মিরপুর সাগুপ্তা হাউজিং লিঃ সমিতির প্লট হতে অপহৃত ভুক্তভোগীসহ ১টি পিস্তল, ১টি গুলি, ৯৮ পিস ইয়াবা, র্যাব জ্যাকেট, সেনা আইডি কার্ড, ভুয়া র্যাব আইডি কার্ড, র্যাব লোগো সম্বলিত স্টিকার, র্যাব মনোগ্রামযুক্ত মাক্স উদ্ধারপৃর্বক অপহরনকারীর আরও ২ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
