রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন চার ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ২৫ শতাংশ ফসলি জমি হারিয়েছে। বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে কমেছে ফসলি জমির পরিমাণ। স্থানীয় সময় সোমবার ইউক্রেনের কৃষি উপমন্ত্রী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এটি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয় বলে দাবি করেন তিনি।
কৃষি উপমন্ত্রী তারাস ভিসোটস্কি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আবাদযোগ্য জমির ২৫ শতাংশ ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও দেশের মানুষের জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে এ বছর ফসল রোপণের কাঠামো যথেষ্ট বড় করা হয়েছে। ফসলি জমি কমে যাওয়া ইউক্রেনের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর আগে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা জানায়, যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জমি চলতি মৌসুমে অনাবাদি বা চাষের আওতার বাইরে থেকে যাবে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ গড়িয়েছে চতুর্থ মাসে। এখনো যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং এই যুদ্ধ অস্থিরতা তৈরি করেছে বিশ্ববাজারে। অধিকাংশ দেশে বেড়েছে সব পণ্যের দাম। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিষেধাজ্ঞার ডামাডোলে ইউক্রেন, রাশিয়া থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি করতে না পারায় খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে কয়েকটি দেশে। বিভিন্ন দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও সেই ক্ষোভ সহিংস রূপ নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ না হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ও করোনার কারণে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুই যেন হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্ব জুড়ে উল্লেখযোগ্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ থাকবে। এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডার মতো দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতির কারণে সংকটে পড়েছে। আমেরিকা যে অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে, এখনই তা থেকে রেহাই মিলছে না। দেশটিতে খাদ্য ও পেট্রোলের দামে ঊর্ধ্বগতি জনগণের পকেট খালি করছে। গত এপ্রিলে দেশটিতে ভোগ্যপণ্যের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি ছিল। এমনকি খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। শক্তিধর অর্থনীতির এই দেশটিতে বর্তমানে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশে উঠেছে, যা ১৯৮১ সালের পর সর্বোচ্চ। অপরদিকে যুক্তরাজ্যে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৯ শতাংশে উঠেছে, যা গত ৪০ বছরে সর্বোচ্চ।
