সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিককে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ ৮ টুকরা করে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার ঘটনার প্রধান আসামি বাবুল হোসেন মুন্সী (২৯) পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় আহত হয়েছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ চার সদস্য। তাদেরকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাতে আশুলিয়ার ইয়ারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত অপহরণকারী বাবলু বরগুনা জেলার সোনাতলা থানার টেকনি গ্রামের বাবর আলী মুন্সীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহত আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিক মেহেদি হাসান টিপুকে হত্যা করে লাশ ৮ টুকরা করার মূল হোতা বাবুল হোসেন ইয়ারপুর এলাকায় একটি বাঁশ বাগানে অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় বাবুল ও তার সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাঁশ বাগানের ভিতর থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। গোলাগুলির একপর্যায়ে অপহরণকারীরা পিছু হটে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা বাবুল হোসেনকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো বলেন, পুলিশের গুলিতে নয়, সহযোগীদের ছোড়া গুলিতেই বাবুল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিতপুর থেকে মেহেদী হাসান টিপু নামের এক পোশাক শ্রমিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরে অপহরণকারীরা তাকে হত্যা করে মৃতদেহটি ৮ টুকরা করার পর পলিথিনে মুড়িয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়।
