শরণার্থী স্রোত থামাতে কঠোর ব্যবস্থা নেবে মেক্সিকো
g বিবিসি ও রয়টার্স
মার্কিন সীমান্তে অভিবাসী স্রোত থামাতে কঠোর পদক্ষেপের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যে শুল্কের খড়্গ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে মেক্সিকো। দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন। সীমান্তে শরণার্থীর স্রোত আটকাতে মেক্সিকো রাজি হওয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ‘অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য’ স্থগিত রাখার কথাও বলেছেন তিনি।
টুইটারে মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্সেলো এব্রার্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওয়াশিংটনে এব্রার্ডের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের তিনদিনের বৈঠকের পর এ চুক্তি হলো। গতমাসে ট্রাম্প সীমান্তে অবৈধ শরণার্থীদের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা পণ্যে প্রতিমাসে পাঁচ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। এ হারে বাড়তে থাকলে অক্টোবরের মধ্যেই মেক্সিকোর পণ্যগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো।
শুক্রবার দুই দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে মার্কিন সীমান্তে শরণার্থীর স্রোত ও মানবপাচার থামাতে মেক্সিকো ‘অভূতপূর্ব পদক্ষেপ’ নিতে রাজি হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে বলা হয়, সীমান্তে অভিবাসন সংক্রান্ত এক কর্মসূচিকে বিস্তৃত করার ব্যাপারে রাজি হয়েছে মেক্সিকো। ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদেরকে মেক্সিকোতে পাঠানো হবে। সেখানেই তারা তাদের মামলার ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। চুক্তির ফলে মেক্সিকো সোমবার থেকে দেশজুড়ে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করবে। বাহিনী মোতায়েনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মেক্সিকো-যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তকে।
গত কয়েক মাসে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ ব্যাপকহারে বেড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক বাড়ানোর হুমকির মধ্যেই গত সপ্তাহে মেক্সিকোর বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর তাঁর দেশের উত্তর সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারে রাজি হয়েছিলেন। এ নিয়ে মীমাংসা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে চলা আলোচনা অবশেষে চুক্তির মাধ্যমে সফল পরিসমাপ্তির দিকে গেল।
