বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পুলিশের গাড়ি থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিলো কর্মীরা 

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১৪:৩১

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৪ নং ওয়ার্ডে ভোটারদেরকে টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ইলিয়াসকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হলে শাখা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা এসে তাকে ছিনিয়ে নেন। বুধবার (১৫ জুন) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শালবন বিহার প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। 

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলন করলে পরবর্তীতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত হয়ে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। আন্দোলন আরো তীব্র হলে জেলা প্রশাসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজসহ অন্যান্য নেতাকর্মীদের। এ ঘটনা মীমাংসা করার জন্য কুমিল্লার সার্কিট হাউজে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। 

সার্কিট হাউজে আলাপ-আলোচনা শেষে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, নির্বাচন একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। এটা সম্পাদন করতে গিয়ে অনেক ধরনের তথ্যগত সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমাদের কাছে একটি ভুল তথ্য এসেছিল। আমরা এই বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেছি৷ তাদের কোন অভিযোগ থাকলে সেটা আমাদের কে লিখিত অভিযোগ করলে আমরা দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সশরীরে গিয়ে কথা বলেছি। উনারা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

ঘটনার সময় ওই কেন্দ্রে দায়িত্বরত কুমিল্লা জেলার সহকারী কমিশনার মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ভোটারদেরকে টাকা দেওয়ার অভিযোগে ইলিয়াসকে ডেকে কথা বলতে চাই আমরা। এর মাঝেই ছাত্রলীগের ছেলেরা এসে তাকে নিয়ে যায়। তার পকেটে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম আমরা। তবে ইলিয়াস হোসেন সবুজ এগুলো ছাত্রদের মিল চালানোর টাকা বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, আমি কর্মীদেরকে খাওয়ানোর জন্য টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলাম। ক্যাম্পাস গেটে গিয়ে সৌদিয়া (কোটবাড়িতে অবস্থিত রেস্টুরেন্ট) থেকে খাবার আনার জন্য লোক খুঁজছিলাম। তাছাড়া আমি ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আমার কাছে সবসময় ২০-৩০ হাজার টাকা থাকতেই পারে। আমি কোনো ভোটারকে টাকা দেইনি ও ভোটকেন্দ্রের আশেপাশেও যাইনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমি ডিসি মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করেছি। আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা লিখিত অভিযোগ দেব এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাব। 

ইত্তেফাক/এআই