‘বাংলাদেশের অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু রয়েছে ভারত-পাকিস্তানে’

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ২০:০৮

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অবস্থার অমূল্য সাক্ষ্য বহনকারী একটি প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু ভারতের কলকাতার একটি সংগ্রহশালায় রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার ময়নামতির শালবন বিহার ও অন্যান্য প্রত্নস্থানে ১৯৫০ ও ১৯৬০'র দশকে উদ্ধারকৃত অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু পাকিস্তানে পাচার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) বেলা ১১টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জহির রায়হান মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিষদ ও জাবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে এ দাবি করেছেন জাবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। 

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে 'পাওয়ার অব মিউজিয়াম' প্রতিপাদ্যে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা পাচারকৃত বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট আহবান জানান। 

সেমিনারের অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর বলেন, প্রাচীন পুণ্ড্রনগরে (মহাস্থানগড়ে) ১৯৩০ সালে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি শিলালিপি আবিষ্কৃত হয়। ব্রাহ্মী হরফে লেখা প্রাকৃত ভাষার শিলালিপিটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম লেখনির সাক্ষ্য বহন করে। মহাস্থান শিলালিপিটি তৎকালীন শাসন ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অবস্থার অমূল্য সাক্ষ্য। ১৯৩০ সালে বর্তমান বাংলাদেশ তখন অখণ্ড ভারতের অংশ ছিল বিধায় অমূল্য প্রত্নবস্তুটি ভারতের কলকাতায় একটি সংগ্রহশালায় নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশ ভাগ হওয়ার ৭৫ বছর পরও মহাস্থান শিলালিপিটি কলকাতার সংগ্রহশালায় রয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার ময়নামতির শালবন বিহার ও অন্যান্য প্রত্নস্থানে ১৯৫০ ও ১৯৬০'র দশকে বড় আকারের প্রত্নতাত্ত্বিক খনন পরিচালিত হয়েছিল। উৎখননে আবিষ্কৃত অসংখ্য প্রত্নবস্তু তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসের অমূল্য প্রত্নবস্তু গুলাে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও আর ফেরত আসেনি। বর্তমানে সেগুলাে পাকিস্তানের গুদামে অবহেলায়-অযত্নে পড়ে আছে।

সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি বলেন, জাদুঘর আমাদের অতীত মানুষদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে জানায়। অতীতের এসব ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আমরা বর্তমানের সাথে সমন্বয় করে সামনে পথচলার অনুপ্রেরণা পাই। এজন্য বাংলাদেশের তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জাদুঘরের সাথে আরও বেশি সংযুক্ত করা উচিত।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, গবেষক-লেখক ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার, কলা ও মানবিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, ইতিহাস বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জয়ন্ত সিংহ রায়।

ইত্তেফাক/এআই